কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার বিভিনড়ব পয়েন্ট দিয়ে দেড় শতাধিক রোহিঙ্গার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসী। স্থানীয়রা বলছেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে এই চেষ্টা চালানো হয়। সেই থেকে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সীমান্তের বিভিনড়ব পয়েন্টে পাহারায় ছিলেন তারা। তাদের এ পাহারা চলবে; আর কোনো রোহিঙ্গাকে প্রবেশ করতে দেবেন না তারা। কারণ উখিয়া-টেকনাফে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প রয়েছে। সেখানে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা আছে ১১ লাখ, যাদের কারণে স্থানীয়দের অনেক সমস্যা হচ্ছে। নতুন করে আরও রোহিঙ্গা এলে সমস্যা বাড়বে। এমন পরিস্থিতিতে বিজিবির পক্ষ থেকেও সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে রোহিঙ্গাদের একটি দল পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া এলাকা দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করে। তখন মসজিদে মাইকিং করে স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়। সেখানকার জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় লোকজন পাহারা বসিয়েছেন রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে। খবর এসেছে, তাদের মধ্যে অনেকে করোনাভাইরাসে আμান্ত। কোনো রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এখনো করোনার রোগী ধরা পড়েনি। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছয়জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার বিজিবি ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ বলেন, ‘সীমান্তে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টার খবরে বেশ কয়েকটি পয়েন্টে নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত সীমান্তে কোনো অনুপ্রবেশকারী চোখে পড়েনি। তবে নতুন করে কেউ অবৈধভাবে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।’
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘সীমান্তে বিজিবি ও স্থানীয় লোকজন সতর্ক না থাকলে এতক্ষণে রোহিঙ্গাদের দলটি বাংলাদেশে ঢুকে যেত। বিজিবি যথেষ্ট কষ্টে করেছে, সারা রাত পাহারা দিয়েছে। এমনকি বিজিবির সিও নিজে উপস্থিত ছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের পাহারা এখনো অব্যাহত রয়েছে। কারণ ইতিমধ্যে আমার ইউনিয়নে আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। তাদের কারণে চুরি-ছিনতাই ও মাদক কারবার বেড়েছে। আরও রোহিঙ্গা এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।’ ইউপি চেয়ারম্যান গফুর বলেন, ‘মিয়ানমারে করোনা রোগী ধরা পড়েছে। শুনেছি যারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে তাদের মধ্যেও করোনা রোগী আছে। এ খবরে স্থানীয়রা উদ্বিণ্ণ হয়ে পড়েছেন।’
টেকনাফের হ্নীলা ইউপির চেয়ারম্যান রাশেদ মাহামুদ আলী বলেন, ‘স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’ হোয়াইক্যংয়ের সংবাদকর্মী জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের টহল জোরদার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করতে পারেনি।’
উখিয়ার পালংখালী আঞ্জুমানপাড়ার ইউপি সদস্য সুলতান আহমদ বলেন, ‘রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তের কাছাকাছি গভীর রাত পর্যন্ত পাহারা দিয়েছি। বিজিবি ও স্থানীয়দের তৎপরতা দেখে অনুপ্রবেশকারী দল হয়তো ফিরে গেছে। দলটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে শামলা খাল নামক এলাকায় অবস্থান করছে। তবে তারা সুযোগ বুঝে যেকোনো মুহূর্তে ঢুকতে পারে। ফলে আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। শুনেছি তাদের মধ্যে অনেকে করোনা আক্রান্ত।’
টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পরিচালক (অপারেশন) মেজর রুবায়াৎ কবীর বলেন, ‘রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টার খবরে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’ সীমান্ত এলাকা বড় হওয়ায় স্থানীয়দেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এ ব্যাপারে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘বিজিবি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আর কোনো রোহিঙ্গাকে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’ তিনি জানান, ৬ রোহিঙ্গাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তাদের একজন এসেছিলেন অস্ট্রেলিয়া থেকে। আর একই পরিবারের পাঁচজন এসেছেন ভারত থেকে।
প্রসঙ্গত, উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত দিয়ে ২০১৭ সালের আগস্টে দলে দলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছিল। তারা এখন উখিয়া ক্যাম্পে রয়েছে। বর্তমানে কক্সবাজারে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে।