রাঙ্গামাটিতে ইউপি সদস্যকে গুলি করে হত্যা

রাঙ্গামাটির জুরাছড়িতে হেমন্ত চাকমা নামে এক ইউপি সদস্যকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উপজেলা সদরের ধামাইপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত হেমন্ত চাকমা ২ নম্বর বনযোগীছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন। জানা গেছে, নিজ বাড়ির কাছাকাছি এক বন্ধুর বাসায় রাতের খাবার খেয়ে সেখানে কথা বলছিলেন হেমন্ত চাকমা। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায় কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান হেমন্ত। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বনযোগীছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তোষ কুমার চাকমা গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কে বা কারা হেমন্ত চাকমাকে গুলি করে হত্যা করেছে। শুক্রবার রাতেই এ খবর জানতে পারি।’

জুরাছড়ি থানার ওসি মাহমুদুল হাই গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গুলি করে ইউপি সদস্য হেমন্ত চাকমাকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পর রাতেই পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। পরে আজ (শনিবার) সকালে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।’

ময়নাতদন্ত শেষে হেমন্তের মরদেহ পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ওসি। দেশব্যাপী করোনা আতঙ্কের মাঝেও পাহাড়ে থেমে নেই গুলি করে হত্যার ঘটনা। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে প্রশাসন থেকে শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করে গেলেও পাহাড়ে ১৭ দিনের মধ্যে এ নিয়ে গুলি করে তিনটি হত্যার ঘটনা ঘটল। এর আগে ২ এপ্রিল রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা থানার চিৎমরম ইউনিয়নের ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি উসুই প্রু মারমাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এর এক সপ্তাহ আগে গত ২৫ মার্চ বাঘাইছড়িতে জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) এক কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।