উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ মানেই যেন বিস্ময়কর সব ঘটনা। রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের গুরুতর সব ‘অপকর্মে’র নথি ফাঁসকারী এই প্রকাশক ও সাংবাদিক এবার নিজেই অবিশ্বাস্য খবরের শিরোনাম। লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে বন্দী থাকা অবস্থায় আইনজীবীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে পিতাও হয়েছেন!
দ্য মেইল অন সানডে অ্যাসাঞ্জের বান্ধবী দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত আইনজীবী স্টেলা মরিসের সাক্ষাৎকার ছেপেছে। তিনি জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে বাগদান হলেও বিয়ে করেননি এখনো।
অ্যাসাঞ্জের বড় ছেলের নাম গ্যাব্রিয়েল। তার বয়স এখন দুই বছর। ছোট ছেলে এক বছরে পড়েছে।
৩৭ বছর বয়সী স্টেলা মরিস অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে ৫ বছর আগে দেখা করতে গিয়ে প্রেম পড়েন।
২০১৬ সালে গ্যাব্রিয়েল যখন গর্ভে, অ্যাসাঞ্জ তখন দূতাবাসে বন্দী। সেই দিনগুলোতে মার্কিন গোয়েন্দাদের নজরদারিতে ছিলেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ান-বংশোদ্ভূত অ্যাসাঞ্জ লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে ২ হাজার ৪৮৭ দিন অন্তরীণ থাকার পর গত বছর লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। ইকুয়েডর সরকার অ্যাসাঞ্জের কূটনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহার করার পর ওই ঘটনা ঘটে।
২০১০ সালে অ্যাসাঞ্জের উইকিলিকস লাখ লাখ মার্কিন গোপন নথি ফাঁস করে। ওই বছরই তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে সুইডেনে।
স্টেলা মরিস সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, লন্ডন হাসপাতালে জন্ম নেয়া দুই সন্তানের মুখ দেখাতে অ্যাসাঞ্জকে ভিডিওকল দিয়েছিলেন তিনি।
৪৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ১৮টি অভিযোগ, এর মধ্যে ১৭টিই গুপ্তচরবৃত্তি আইনে। এসব অভিযোগে অ্যাসাঞ্জের ১৭৫ বছরের সাজা হতে পারে।
স্টেলা মরিস বলছেন, লন্ডনের বেলমার্শ কারাগারে বন্দী অ্যাসাঞ্জকে মুক্তি না দিলে জেলেই বিয়ে করবেন।
‘শুরুতে আমাদের কাজের সম্পর্ক ছিল। প্রতিদিন দূতাবাসে যেতে যেতে অ্যাসাঞ্জের বন্ধু হয়ে যাই,’ জানিয়ে স্টেলা বলেন, ‘কয়েক বছর তাকে দেখে মনে হয়েছে এমন মানুষকেই আমি চেয়েছি। আমাদের সম্পর্ক শুরু হয় ২০১৫ সালে।’