কভিড-১৯ মহামারীতে বিশ্বের বিভিনড়ব দেশের মতো লকডাউনে আছে দক্ষিণ কোরিয়াও। তবে সময়মতো যথোপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অন্যান্য দেশের তুলনায় দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্তান্তের হার ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। এদিকে নতুন বছর শুরু হলেও শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক পড়াশোনা শুরু হতে দেরি হওয়ায় অনলাইনেই ক্লাস করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা
অনলাইনে ক্লাস
৯ এপ্রিল থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইনে ক্লাস করানো শুরু হয়েছে। প্রথম দিন ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী একসঙ্গে একই সময়ে অনলাইনে উপস্থিত ছিল। নতুন বছরের পড়াশোনা শুরু হতে না হতেই করোনার প্রাদুর্ভাবে দেশটির সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে প্রায় সাত সপ্তাহ ধরে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে এতে। কিন্তু বিশ্ব সংকটের এমন মুহূর্তে বন্ধ না রেখে শিক্ষাবিষয়ক কোনো প্রতিষ্ঠান চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকলেও, প্রাইমারি ও হাইস্কুলের তৃতীয় ও শেষ বর্ষে আছেÑ এমন শিক্ষার্থীদের মৌখিক ক্লাস নেওয়া হচ্ছে এখন। ১৫-১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা গুগল ক্লাসরুম ও জুমের মতো লাইভস্ট্রিম প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বাড়ি থেকে অনলাইনে ক্লাস করছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১০,৪২৩ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২০৪ জনের। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পর্যন্ত দেশটিতে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯ জন। গত সাত সপ্তাহের মধ্যে এ সংখ্যা সবচেয়ে কম। দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বের শহর দায়িগু থেকে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। প্রতি চার দিনে গড়ে ৫০ জন করে নতুন আক্রান্তের খবর আসতে থাকে। ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দ্রুত সামাজিক দূরত্ব বাধ্যতামূলক করে দেয় সরকার। বাইরে যেকোনো কাজে বের হলেই পরস্পরের মধ্যে অন্তত দুই মিটার সামাজিক দূরত্ব রাখতে হবেÑ এমন নির্দেশনা জারি করা হয়। এই নির্দেশনা ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মেডিকেলে যেই কর্মীরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে এবং একে অন্যের সহযোগিতা করে প্রাদুর্ভাব কমাতে সহযোগিতা করেছিলেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানান উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী কিম গ্যাং লিপ। তবে এখনই সবাইকে সন্তুষ্ট হতে বারণ করেছেন তিনি। কারণ এখনো নিশ্চিন্ত হওয়ার সময় আসেনি। কোরিয়ার ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন সেন্টারের পরিচালক জিয়ং ইউন কিওংয়ের মতে, সামাজিক দূরত্ব আরও কিছুদিন চালিয়ে যেতে হবে। নইলে বড় আকারে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২ মার্চ থেকে যে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার কথা ছিল, সেটি তখন পাঁচ সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয় এই ইনফেকশন বড় আকারে ছড়িয়ে যাওয়ার ভয়েই। এখন অনলাইনে এই শিক্ষাকার্যক্রম আরও দুই সপ্তাহ ধরে চলবে
শিক্ষাকার্যক্রম
অনলাইনে ক্লাস শুরুর প্রথম দিন সিওল গার্লস হাইস্কুলের শিক্ষকরা শূন্য ক্লাসরুমে সকাল ৮টায় পড়াশোনা শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি গণনা শুরু করেন। কিন্তু এমন সুবিধা সব স্কুলে সমানভাবে মেলেনি। কিছু স্কুলে বেশ সমস্যা হচ্ছিল ক্লাস নিতে। এডুকেশনাল ব্রডকাস্টিং সিস্টেমের অধীনে অনলাইনে যতটুকু প্রযুক্তিগত সুবিধা দেওয়ার কথা ছিল, ততটুকু তারা পাচ্ছিলেন না। আগে রেকর্ড করা ভিডিওগুলোতে শব্দও শোনা যাচ্ছিল না। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ইয়ো ইয়ুন হে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের অনলাইনে একত্র হয়ে কাজ করার জন্য অনুরোধ করেছেন। ভাইরাসের সংক্রমণে দুর্যোগময় এ মুহূর্তে অনলাইন ক্লাসগুলো যে অনেকটুকু চিন্তামুক্ত রাখতে সক্ষম, সে বিষয়ে সবাইকে অবহিত করেন তিনি। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি সংকটময় এ মুহূর্তেও শিক্ষার্থীদের স্কুল বন্ধ করা উচিত নয়। প্রতিটি স্কুলকে অনলাইন শিক্ষার তিনটি পদ্ধতি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে যেকোনো একটি মাধ্যম তারা বেছে নিতে পারত।
সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে, স্কুলের তৈরি করে দেওয়া ভিডিওতে কনটেন্ট ব্যবহার করে এবং অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষা যেখানে শিক্ষার্থীদের প্রজেক্ট অথবা রিপোর্ট জমা দিতে হবে বাধ্যবাধকতা আছে। প্রধানমন্ত্রী চাং সায়ে কিউ শিক্ষা পদ্ধতির নতুন এই ধারার বেশ প্রশংসা করছেন। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে আমাদের ছেলেমেয়েরা হয়তো স্কুলে যেতে পারছে না, কিন্তু তাদের সময়ের যথার্থ মূল্যায়ন করতে আমরা সব সময় প্রস্তুত। অনলাইনে শিক্ষাদান পদ্ধতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল জনগণকে কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম যেন ভাঙতে না হয়, সেটা নিশ্চিত করা। ১ এপ্রিল থেকে দেশটির প্রতিটি মানুষের জন্য সেলফ কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক করা হয়। এই নিয়মভঙ্গকারীদের জন্য ১১,৭০০ ডলার জরিমানা বা এক বছরের কারাজীবন ভোগ করার শাস্তির বিধান করা হয়েছে। গত সপ্তাহে ৪০ বছর বয়সী একজন ইন্দোনেশিয়ান এই নিয়ম ভঙ্গ করায় প্রথম বিদেশি হিসেবে তিনি এই শাস্তি পান। এ ছাড়া গত সপ্তাহেই দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের গুনসান শহর থেকে কোয়ারেন্টাইন না মেনে তিনজন ভিয়েতনামি শিক্ষার্থী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। জিপিএস ট্র্যাক করে তাদের আটক করা যাবেÑ এমন ভেবে তারা ফোন সঙ্গে করে নেয়নি। পরে অবশ্য তাদের আটক করা হয়েছে। দেশটিতে কোয়ারেন্টাইন বিধিনিষেধ বেশ কঠিনভাবেই পালন করা হচ্ছে। কোয়ারেন্টাইন থাকাকালে হাতে একটি ইলেকট্রনিক ট্যাগ পরে থাকতে হয়। বিষয়টি নিয়ে একটি সমীক্ষা করা হয়েছিল। সেখানে প্রতি ১০ জনে আটজন মানুষ এতে সম্মতি দিয়েছে। তবে কোরিয়ার মানবাধিকার সংস্থা এটিকে ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে এর বিরোধিতা করেছে।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতামত
দক্ষিণ কোরিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম হাংকুক অ্যাকাডেমি। সেখানে ইংরেজি বিভাগের প্রধান শিক্ষক মিস হা। তিনি অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছিলেন। শিক্ষার্থীবিহীন ক্লাসে ল্যাপটপে নাম ডাকছেন তিনি। শুরুতে তিনি নতুন এই প্রযুক্তি নিয়ে কিছুটা ভয়ে ছিলেন। তবে এখন তার কাছে ততটা জটিল লাগছে না। শিক্ষকরা বুঝতে পারছেন, এভাবে ক্লাস না নেওয়া ছাড়া আসলে উপায় নেই। বিষয়টি বেশ স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন ইংরেজির আরেক শিক্ষক মিস ইউ। দুর্যোগকালীন সময়ে এভাবে ক্লাস না করলে লেখাপড়ায় শিক্ষার্থীরা বেশ পিছিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, এটা অন্যরকম একটা অনুভূতি। আমাদের যত দ্রুত সম্ভব পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে। মনে হচ্ছে, যেন আমরা সবাই সুনামির গতিতে এগোচ্ছি। শিক্ষকদের জন্য নতুন প্রযুক্তিতে পড়ানোর জন্য প্রতিদিনের তালিকা করা কিছুটা ভাবনার। আবার অন্যদিকে, শিক্ষার্থীরা ভাবছেন, নতুন বছরের স্কুল শুরু হতে এই দেরির কারণে তাদের ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হবে কি না। দক্ষিণ কোরিয়ায় লেখাপড়া করার পদ্ধতি অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশ কঠিন। কলেজের ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের রাতের পর রাত জেগে পড়তে হয়। আট ঘণ্টার এই পরীক্ষা এক রকম ম্যারাথন দৌড়ের মতো। একের পর এক পরীক্ষা দিতে হয়। স্বাভাবিকভাবে এ পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিন্তা কাজ করে খুব বেশি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের টেস্ট পরীক্ষার তারিখ ডিসেম্বর পর্যন্ত পিছিয়েছে। তবু চিন্তা দূর হচ্ছে না ১৮ বছর বয়সী চয় ইউন জাং-এর। সে বলছে, স্কুল এক সপ্তাহ পর শুরু হবে, এটা
শুনে আমি সত্যিই খুশি হয়েছিলাম। ফাইনাল ইয়ার নিয়ে তেমন ভাবনাও হচ্ছিল না। কিন্তু যখন ক্লাস শুরুর তারিখ বারবার পেছাতে লাগল, তখন সত্যি ভাবনা শুরু হলো। কারণ এখন ক্লাস শুরু হলে আমাদের মিড টার্ম, ফাইনাল পরীক্ষা কবে হবে? টেস্ট পরীক্ষা কলেজের ভর্তি পরীক্ষার শেষ ধাপ। সে পরীক্ষাতেই যদি অংশ নিতে না পারি, তাহলে কীভাবে ভর্তি হব? চয়ের বন্ধু ইউ সু হা-ও এ বিষয় নিয়ে ভাবছে। সে বলছে, শিক্ষকরা মিড টার্ম নিয়ে ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ভাবছেন। এরপর থেকে আমি আসলে ভয় পাচ্ছি। আমাদের স্কুলের অগ্রগতির ভালো কোনো উদাহরণ নেই। আমি শুধু ভয় পাচ্ছি, এসব কারণে যদি আমরা কলেজেই না যেতে পারি তখন? শিক্ষার্থীদের এই ভয় একদম অমূলক বলে ভাবছে দক্ষিণ কোরিয়ার
সরকার। এমনকি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে তেমন ভাবছেন না। দুই সপ্তাহ ধরে কোরিয়ার ডিজিজ কন্ট্রোল সেন্টার থেকে বারবার জনসাধারণকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে বলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, সন্তান ও সন্তানের শিক্ষার কথা ভাবতে। এখনো দেশটির কিছু জায়গায় কভিড-১৯ সংক্রমিত মানুষ রয়েছে। সিওলে প্রাদুর্ভাব ছড়ানো বেশির ভাগ রোগী ভর্তি আছেন দায়িগু হাসপাতালে। তাদের মধ্যে অনেকেই এসেছিলেন আমেরিকা ও ইউরোপ থেকে। তাদের মাধ্যমেই পুরো দেশে ভাইরাস ছড়িয়েছে। স্কুল শুরু করার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে পাঁচ সপ্তাহ পিছিয়ে গিয়েছে। তাই আর দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব ক্লাস শুরু করানো জরুরি হয়ে উঠছিল। আর এজন্য অনলাইন একমাত্র মাধ্যম। কভিড১৯ প্রাদুর্ভাবকে এভাবে সামলানোর জন্য সরকার প্রশংসা নাও পেতে পারে। কোয়ারেন্টাইনের জন্য বাধ্যতামূলক জোর করার বিষয়টি নিয়ে পরে তাদের নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সম্ভাবনা বেশি। তবে যথেষ্ট ঝুঁকি এবং পরিশ্রমের পরও ক্লাসরুম এখনই খুলে দিলে সেটি হয়তো সঠিক সিদ্ধান্ত নাও হতে পারত। প্রধানমন্ত্রী চাং সায়ে কিউ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, অনলাইনে স্কুল চালানো আমাদের কাছে কাছে এমন একটি নতুন রাস্তা, যেটাতে আমরা কখনো হাঁটিনি। অনেক কঠিন দায়িত্ব ও দুর্বোধ্য পথ পাড়ি না দিয়ে আমরা চাইলেই হয়তো স্কুল বন্ধের দিন আরও দীর্ঘায়িত করতে পারতাম। কিন্তু অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার মতো দ্বিতীয় সেরা সিদ্ধান্তটাই আমরা বেছে নিয়েছি। এই ক্লাসগুলো যেন সঠিকভাবে হয়, সেটি নিশ্চিত করার সর্বাত্মক চেষ্টা আমরা করছি। এরই সঙ্গে কভিড-১৯ মহামারীকে মোকাবিলা করারও চেষ্টা করছি, যেন শিক্ষার্থীরা আবার স্কুলে ফিরতে পারে
অনলাইন চ্যালেঞ্জ
দেশটির সব শিক্ষার্থীকে অনলাইনের আওতায় নিয়ে আসা অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ। সরকার ইতিমধ্যে নিম্নআয়ের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ইন্টারনেট বিলসহ বিভিন্ন সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু এরপরও শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই যথেষ্ট স্মার্ট ডিভাইস ছিল না। প্রায় ২২৩,০০০ শিক্ষার্থী জানায়, তাদের কাছে অনলাইনে ক্লাস করার মতো ইলেকট্রনিক সামগ্রী নেই। বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ট্যাবলেট, ইন্টারনেট ডিভাইস এবং সেগুলো ব্যবহারের উপায় জানিয়ে সহায়তা করছে। সিওলে গুড নেইবারস নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিম্নআয়ের মানুষদের মধ্যে ইলেকট্রনিক সেবার পাশাপাশি খাবার সহায়তাও দিচ্ছে। কিম সুন হং নামে সংগঠনটির একজন সদস্য জানান, মা-বাবার কাছে স্মার্ট ডিভাইসের চেয়ে শিক্ষক ছাড়া তারা কীভাবে পড়া শিখবে, সেটা নিয়ে ভাবনা বেশি। নিম্নআয়ের পরিবারগুলোতে বিশেষ করে যেখানে একা মা বা বাবা, দাদা রয়েছেন, তাদের সবচেয়ে বড় চিন্তা, তারা কাজে গেলে ছেলেমেয়েরা খাবার কীভাবে পাবে। আমরা নিয়মিত তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করছি, তাদের খাবার বা অন্য কোনো সাহায্য লাগবে কি না সে বিষয়ে জানতে চাচ্ছি। অনেকে আবার ভাবছেন বেশির ভাগ সময় কম্পিউটারের সামনে থাকা নিয়ে। প্রায় সাত ঘণ্টা টানা কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা নিয়ে চিন্তিত অনেকে। তবে সরকার বলছে, এটা পরীক্ষামূলক। খুব বেশিদিন হয়তো এমনটি করতে হবে না। যেহেতু ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব রাখতে বলা হয়েছে, কাজেই সে সময় পর্যন্ত ক্লাস এভাবে করতে হবে। যদি প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা ৫০-এর নিচে কমে আসে, তবে হয়তো কিছু স্কুল, অন্তত কিছু ক্লাস খুলে দেওয়ার কথা ভাববে সরকার।