রূপগঞ্জে গোপনে দাফনের পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বাস্থ্যকর্মীরাই আতঙ্কে মাঠে নামছেন না। এমনকি জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে কোনো রোগী ফোন দিয়ে নমুনা সংগ্রহের তাগাদা দিলে স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছেন অথবা ফোন ধরছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনা উপসর্গের মানুষের নমুনা সংগ্রহ ও করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত মানুষের নমুনা সংগ্রহ করতে ১১০ স্বাস্থ্যকর্মীকে মাঠপর্যায়ে কাজের জন্য রাখা হয়েছে। উপজেলায় এ পর্যন্ত তিন নারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আর জ্বর, কাশি, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাঈদ আলম মামুন বলেন, পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা মাঠে কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গত ৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় সদর ইউনিয়নের আলমপুরা এলাকায় ঠান্ডা, জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে আইতুনেড়বসা (৫০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। এ খবর এলাকাবাসী ফোনে স্বাস্থ্যকর্মী মনিরা ও মাসুম শাহকে জানালে তারা রাতে আসতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। পরে তারা এলাকাবাসীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করে গোপনে লাশ দাফনের পরামর্শ দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিণ্ণ করে দেন। ওই নারীর ও তার পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করতে যাননি স্বাস্থ্যকর্মীরা।

গত ১০ এপ্রিল সকালে কাঞ্চন পৌরসভার চরপাড়া এলাকায় জ¦র, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট নিয়ে ওসমান (৪৮) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর হয়। ওই ব্যক্তির এক চাচাতো ভাই একই উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ ছিলেন। এলাকাবাসী কাঞ্চন পৌরসভায় দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মী হাবিবা আক্তারকে বিষয়টি জানালে তিনি এলাকাবাসীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং গোপনে লাশ দাফন করতে বলেন।

১১ এপ্রিল ভোরে উপজেলার রূপসী প্রধানবাড়ী এলাকায় জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট নিয়ে জলিল প্রধান (৬৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা উপজেলার স্বাস্থ্যকর্মীদের ইনচার্জ উত্তম সেনকে বিষয়টি জানালেও ওই বৃদ্ধের নমুনা নেওয়া হয়নি। তিনিও লাশ গোপনে দাফন করে ফেলতে বলেন।

এ ব্যাপারে উত্তম সেন বলেন, করোনা উপসর্গ নিয়ে কেউ মারা গেলে আমরা তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি যাচাই করি। পরিবারের সদস্যরা বললে আমরা মৃত ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করি। এ পর্যন্ত যে তিনজন মারা গেছেন তারা বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। আর সাধারণ মানুষের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের খারাপ আচরণ করার অভিযোগ ঠিক নয়।