স্যামি উডস : জ্যাক অব অল ট্রেড

নামটা একটু লম্বা- স্যামুয়েল মোজেস জেমস স্যামি উডস। ক্রিকেট দুনিয়া তাকে চেনে স্যামি উডস নামে।

হঠাৎ এই ভদ্রলোকের গল্প কেন? না, দু’দেশের হয়ে টেস্ট খেলেছেন বলে নয়। ক্রিকেট ইতিহাসে এমন উদাহরণ আরও আছে। উইলিয়াম বিলি ইভান্স মিডউইন্টারও খেলেছেন দুই দেশের হয়ে। গ্লুস্টারশায়ারের সেন্ট ব্রাইভেলসে জন্ম নেওয়া বিলি মিডউইন্টার ইংল্যান্ডের পক্ষে চারটি আর অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আটটি টেস্ট খেলেছেন। টেস্ট ইতিহাসের প্রম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান উইলিয়াম লয়েড মারডকও টেস্ট খেলেছেল অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের হয়ে।

তাহলে স্যামি উডসের বিশেষত্ব কোথায়? বিশেষত্ব এখানেই, সিডনির অ্যাশফিল্ডে জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা এই অস্ট্রেলীয় ক্রীড়াবিদ ছিলেন নামি রাগবি তারকাও। ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন রাগবি। শুধু তাই নয় উডস ছিলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডার-গ্রাজুয়েট। এক কথায় ‘জ্যাক অব অল ট্রেড’ বলতে যা বোঝায় তাই ছিলেন উডস। সত্যিকারের অল রাউন্ডার।

১৮৬৭ সালের এপ্রিলের এই দিনে জন্ম তার।

রাগবি ইউনিয়নে ইংল্যান্ডের পক্ষে ১৩ বার খেলেছেন স্যামি উডস। অধিনায়কত্ব করেছেন পাঁচটিতে। এছাড়াও ইংল্যান্ডের কাউন্টি পর্যায়ের ফুটবল ও হকিতে অংশ নিয়েছেন। ফলে ধরেই নেওয়া যায় শরীরটা তার অন্যদের চেয়ে বেশিই শক্তপোক্ত ছিল। তার প্রমাণও মেলে। ১৮৯৪ সালে লর্ডসে একবার জেন্টলম্যান ও প্লেয়ার্সদের ম্যাচ হয়েছিল। সেই ম্যাচে দুই ইনিংসেই টানা বল করেছিলেন তিনি। বিরামহীন ভাবে। হ্যাঁ, বিশ্বাস করুন বা না করুন সেদিন উডসের কোনো বদলি ছিল না। আসলে দরকার পড়েনি। যাই হোক ক্রীকেটকেই প্রধান খেলা হিসেবে বেছে নেন। চব্বিশ বছরের খেলোয়াড়ি জীবনে চার শতাধিক প্রম-শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছেন। তাকে ইংলিশ কাউন্টি সমারসেটের কিংবদন্তি বললে কম বলা হয়। ১৮৯৪ থেকে ১৯০৬ পর্যন্ত সমারসেটের অধিনায়কত্ব করেন স্যামি উডস। ২১ বছর থেকেই তিনি সমারসেটে জনপ্রিয়। μমে সেই জনপ্রিয়তা বেড়েছিল। এতটাই যে মৃত্যুর পর তাকে টনটনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। সানডে টাইমসের বিখ্যাত সাংবাদিক আর. সি. রবার্টসন-গ্লাসগো তার সম্পর্কে লিখেছিলেন, ‘আপনি যদি টনটনকে জানতে চান তাহলে কোনো এক গ্রীষ্মের সকালে চুপিচুপি স্যাম উডসের কাছে যান। যেতেই হবে। তিনি সমারসেটের মহামানব।’

স্যামি উডস কেমন ক্রীকেটার ছিলেন? বিখ্যাত μিকেট লেখক এ. এ. থমসন লিখেছিলেন, ‘স্যামি ছিলেন হার্ড হিটিং ব্যাটসম্যান। ক্ষিপ্রগতির ফাস্ট বোলার। যদি কারও সঙ্গে তুলনা করতে হয় তাহলে স্যার লিয়ারি কনস্ট্যান্টাইনের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে।’ শোনা যায় ভয়ংকর ইয়র্কার ও স্লো ডেলিভারিতে তিনি চাইলেই ব্যাটসম্যানকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠাতে পারতেন।

উডসের লেখাপড়া শুরু হয়েছিল সিডনির গ্রামার স্কুলে। পরে তিনি রস্টোন কলেজেও পড়েছেন। এখানে পড়ার সময়েই ক্রিকেটার হিসেবে তার উত্থান। ১৮৮৩ সালে একবার ৫ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন। আরেকবার টানা ৭ বলে ৭ উইকেট। ১৮৮৪ সালে ইংল্যান্ডের ব্রাইটন কলেজে ভর্তি হন উডস। তখন ইংল্যান্ডের সেরা পাবলিক স্কুল μিকেটার ছিলেন জি.এল উইলসন। তাকে দু’বার আউট করে সারা ফেলে দেন। এরপর ব্রাইটন কলেজের হয়ে গন্ডা গন্ডা উইকেট নিয়েছেন। ১৮৮৮ সালে ভর্তি হন কেমব্রিজে। এখানেও তার উজ্জ্বল উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। কেমব্রিজ ব্লুর পক্ষে গড়ে ১৫ রানের বিনিময়ে ১৯০ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এখানে পড়া অবস্থায় ১৮৮৮ সালের ১৬ জুলাই অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় উডসের। প্রম ইনিংসে ১৮ রান করেছিলেন। বল করেছিলেন মাত্র ৬ ওভার। নিয়েছিলেন ১ উইকেট। ডাব্লুউ জি গ্রেসের ইংল্যান্ড প্রম ইনিংসে আউট হয়েছিল মাত্র ৫৩ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬০ রানে অল আউট হয় অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ৩ রান করেছিলেন উডস। টার্নার আর পেরির আগুনে পেসে ৬১ রানে টেস্ট জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে নেননি উডস।

ছয় টেস্টের প্রম তিন টেস্ট খেলেছেন তিনি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। শেষ তিন টেস্টে খেলেছেন ইংল্যান্ডের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ৬ টেস্টে রান করেছেন ১৫৪। উইকেট নিয়েছেন ১০টি। এই পারফরমেন্সে উডসকে চেনা সম্ভব নয়। সমারসেটের হয়ে তার পরফরমেন্সই আসল। কাউন্টিতে এই দলের হয়ে ৪০১ ম্যাচে ১০৪০টা উইকেট নিয়েছেন। রান করেছেন ১৫৩৪৫। সেঞ্চুরি করেছেন ১৯টি। ১৮৯৫ সালে হোভে সাসেক্সের বিপক্ষে ২১৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ওটাই ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ রান।