কুয়েত মৈত্রীর ছয় চিকিৎসককে বরখাস্ত অনভিপ্রেত : বিএমএ

দেশে করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকার কারণ দেখিয়ে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের ছয় চিকিৎসককে বরখাস্তের বিষয়টি চিকিৎসকদের হয়রানি এবং চিকিৎসক সমাজের জন্য হতাশাজনক বলে মনে করে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তাদের বরখাস্ত করাও সরকারি চাকরিবিধির প্রতিপালনের ব্যত্যয় বলেও মনে করে সংগঠনটি। এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠনটি। গতকাল রবিবার বিএমএ মহাসচিব ডা. মো. এহতেসামুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়েরস্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে পাঠানো এক চিঠিতে এসব কথা জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি আদেশে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের ছয় চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আমাদের জানা মতে, উল্লিখিত কর্মকর্তাদের বরখাস্তের পূর্বে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘দুইজন চিকিৎসক রোস্টার ডিউটিতে ছিলেন, একজন চিকিৎসক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গিয়ে জানতে চেয়েছেন তিনি ১ থেকে ৭ এপ্রিল ডিউটি শেষ করে বর্তমানে পরবর্তী রোটেশনের অপেক্ষায় ছিলেন, তিনি কেন বরখাস্ত হলেন? আরেকজন চিকিৎসক মিডিয়াতে বলেছেন যে, তিনি ১ মার্চ পর্যন্ত ডিউটি করেছেন, পুনরায় ১৫ এপ্রিল রোস্টার অনুযায়ী কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ার কথা। তিনি বর্তমানে একটি হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে আছেন।’ চিঠিতে বিএমএ বলে, ‘আমাদের জানা মতে, দুজন চিকিৎসককে ১৩ ফেব্রুয়ারি ও ১৫ ফেব্রুয়ারি কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পদায়ন করা হয়েছে। তারা ওখানে যোগদান করেছেন। তাদের কেন বরখাস্ত করা হলো? সমন্বয়হীনতার ব্যর্থতা কি ‘উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে’ চাপানোর একটি কৌশল মাত্র।’

চিঠিতে এ ব্যাপারে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অনতিবিলম্বে চিকিৎসক হয়রানির আদেশের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। বরখাস্ত নয়, উৎসাহ দিন : ড্যাব

করোনাভাইরাস সংμমণের দুর্যোগকালে চিকিৎসকদের বরখাস্ত না করে বরং ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) ও কাজে উৎসাহ দেওয়া সবার কর্তব্য। তাছাড়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে নেওয়া এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা মাঠপর্যায়ে অন্যান্য চিকিৎসকদের ওপর বিরূপ প্রতিμিয়া সৃষ্টি করবে। গতকাল রবিবার ড্যাবের দপ্তর সম্পাদক ডা. মোহাম্মাদ ফখরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা বলেন সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ ও মহাসচিব ডা. মো. আবদুস সালাম।

করোনা চিকিৎসায় অনীহা প্রকাশের অভিযোগ এনে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের যে ছয়জন চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ড্যাব নেতারা বলেছেন, বরখাস্তকৃত চিকিৎসকদের তালিকাটি ভালো করে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ছয়জন চিকিৎসকের মধ্যে চারজনই অনেক দিন আগে থেকেই যোগদান-পরবর্তী তারিখ থেকে অনুপস্থিত এবং দুজন করোনা রোগীর চিকিৎসার ব্যপারে অনীহা দেখিয়েছে। অথচ শেষোক্ত একজন মিডিয়ার মাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি করোনা রোগীর চিকিৎসা-পরবর্তী ১৪ দিনের বাধ্যগত আইসোলেশনে কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত হোটেলে অবস্থান করেছেন। এ অবস্থায় তাকে বরখাস্তের সংবাদটি সেই চিকিৎসকের জন্য কতখানি বেদনাদায়ক এবং সামাজিকভাবে তার এ সম্মানহানীর জবাব কে দেবেÑ সে প্রশড়বও রাখেন ড্যাব নেতারা।

ড্যাব নেতারা বলেন, মনে রাখতে হবে চিকিৎসকেরও পরিবার আছে, একজন চিকিৎসকও একজন স্বামী বা স্ত্রী, কারও পিতা বা মাতা। তারও রয়েছে পিতা-মাতা, আত্মীয়-পরিজন। এসব উপেক্ষা করেই এ দুঃসময়ে তার দায়িত্ব পালন করতে হয়। সুতরাং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এসব বিবেচনায় নেওয়া সমীচীন ছিল।

এমতাবস্থায় অনতিবিলম্বে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আদেশটি বাতিল করার জোর দাবি জানিয়েছেন ড্যাব নেতারা। এছাড়া এই মুহূর্তে বিভেদ না বাড়িয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে এ মহাসমস্যা উত্তরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা