কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাতে করোনাভাইরাসের ক্ষতি মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বরাদ্দের জন্য নীতিমালা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই ঋণের ন্যূনতম ৫ শতাংশ দিতে হবে নারী উদোক্তাদের। আর ন্যূনতম ১৫ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে হবে গ্রামাঞ্চলে। সরকারি ভর্তুকি বাদে ঋণের সুদহার হবে ৪ শতাংশ। করোনার ক্ষতি কাঠিয়ে ওঠার উদ্দেশ্যে গঠিত এই তহবিলের ঋণ বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে প্রদত্ত সুবিধা বাতিল করা হবে।
গতকাল এই তহবিল ব্যবস্থাপনার নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতিমালাটি কার্যকরের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে ব্যাংকগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। সিএমএসএমই ঋণ বিতরণে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোনো অনিয়ম করলে তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কোনো ঋণখেলাপি ও খেলাপি হিসেবে সুবিধা নিয়েছেন এমন কেউ প্রণোদনার ঋণ পাবেন না।
গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা নীতিমালা অনুযায়ী, ২০ হাজার কোটি টাকার ওই তহবিল থেকে নারী উদ্যোক্তারা ১ হাজার কোটি টাকার ঋণ পাবেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় দেশের অর্থনৈতিক কর্মকা- পুনরুজ্জীবিতকরণের লক্ষ্যে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা অক্ষুণœ রাখা এবং শিল্প কারখানায় নিয়োজিত জনবলকে কাজে বহাল রাখার প্রয়োজনে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্প সুদে চলতি মূলধন ঋণসুবিধা প্রবর্তনের জন্য ৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী ২০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। গ্রাহক পর্যায়ে সহনীয় সুদ বা মুনাফার হার কার্যকর করার লক্ষ্যে বর্তমানে চলমান সুদহার ৯ শতাংশের বিপরীতে সরকার ৫ শতাংশ সুদ ভর্তুকি হিসেবে দেবে। সরকারের দেওয়া ৫ শতাংশ ভর্তুকিসহ ব্যাংক সুদ পাবে ৯ শতাংশ।
ব্যাংক গত বছরে এ খাতে প্রদত্ত মোট ঋণের ১০ শতাংশ প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় বিতরণ করতে পারবে। এই ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সিএমএসএমই খাতের উৎপাদন ও সেবা উপখাতকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। তবে ব্যবসা বা ট্রেডভিত্তিক মাইক্রো ও ক্ষুদ্রশিল্প এ সুবিধার আওতাভুক্ত হবে। এই প্যাকেজের আওতায় উৎপাদন, সেবা ও ব্যবসা (ট্রেড) উপখাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক মোট ঋণের আনুপাতিক হার হবে যথাক্রমে ৫০, ৩০ ও ২০ শতাংশ। বার্ষিক মোট ঋণ ন্যূনতম ১৫ শতাংশ গ্রামাঞ্চলে এবং কমপক্ষে ৫ শতাংশ নারী উদ্যোক্তাদের দিতে হবে। এ প্যাকেজের মেয়াদ হবে ৩ বছর। তবে সুদবাবদ সরকার ভর্তুকি দেবে এক বছর।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, খেলাপিরা এ সুবিধা পাবেন না। এমনকি কোনো খেলাপি ইতিপূর্বে তিনবারের অধিক পুনঃতফসিলকৃত হলে সুবিধা পাবেন না। নতুন ও পুরনো সব উদ্যোক্তা ঋণ নিতে পারবেন। এই প্যাকেজের আওতায় গৃহীত ঋণ দিয়ে আগের ঋণ পরিশোধ করা যাবে না। নতুন ব্যবসা চালুর এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।
উৎপাদন ও সেবা খাতের উদ্যোক্তারা বিদ্যমান ঋণের ৩০ শতাংশ বা তিন বছরের গড় পরিচালন ব্যয়ের ৫০ শতাংশের মধ্যে যেটি কম সেই পরিমাণ ঋণ নিতে পারবেন। ট্রেডিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তারা বিদ্যমান ঋণের ২৫ শতাংশ, তবে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা ঋণ পাবেন। যাদের নামে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কোনো ঋণ নেই, তবে যারা এ যাবৎ নিজস্ব পুঁজি দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন কিন্তু বর্তমানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের সুবিধা নিতে আগ্রহী তারা ৩ বছরের আর্থিক বিবরণীর ৩০ শতাংশ বা গত বছরে মোট বিক্রি বা উৎপাদনের ৫০ শতাংশের মধ্যে যেটি কম তা ঋণ নিতে পারবেন। অন্য নতুন উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা ঋণ পাবেন।