সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি

প্রণোদনায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ নেই

করোনাভাইরাসের প্রভাবে অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সরকার ঘোষিত প্রণোদনায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ নেই বলে মনে করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। গতকাল সোমবার ‘কভিড-১৯, সরকার গৃহীত পদক্ষেপগুলোর কার্যকারিতা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও আয় নিরাপত্তা : সিপিডির প্রাথমিক বিশ্লেষণ ও প্রস্তাব’ শিরোনামে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটি এ মন্তব্য করে। এ ছাড়া করোনার ক্ষতি সামাল দিতে নতুন করে টাকা ছাপানোর মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়নি বলে মনে করে তারা।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘আমাদের মনে হয়, টাকা ছাপানোর এখনো সময় আসেনি। আমরা এমন একটা অবস্থায় পড়েছি সরবরাহের ক্ষেত্রে ডিপ্রেশন রয়েছে, মানুষের চাহিদা নেই। এ সময় মানুষের হাতে টাকা দিলে মূল্যস্ফীতি হবে। আমরা বিশ^ব্যাংক, আইএমএফ, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সাহায্য আনতে পারি। টাকার সরবরাহ ঠিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক তারল্য বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। পৃথিবীর অনেক দেশে কিন্তু জিডিপির ১১-১২ শতাংশ, এমনকি ১৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে এর বেশির ভাগই ব্যাংকনির্ভর। বলা হয়েছে ব্যাংক ও গ্রাহকের সম্পর্কের ভিত্তিতে এ প্রণোদনা দেওয়া হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না এই প্রণোদনায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ নেই। যদিও প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ঘোষণায় বলেছেন যে বিনা মূল্যে খাদ্য বিতরণ করা হবে। ভিজিএফ, ভিজিডির মাধ্যমে খাদ্য বিতরণ করা হবে। খোলাবাজারে চাল বিক্রি করা হবে। বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। যারা অনানুষ্ঠানিক খাতে আছে, দিনমজুর, রিকশাওয়ালা ইত্যাদি তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খাদ্য ও অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে।’ আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন খাতের জন্য যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হলে অর্থনীতি চাঙ্গা হবে বলেও জানান তিনি।

সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সরকার বিভিন্নভাবে তারল্য বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। এই মুহূর্তে টাকার সরবরাহের জন্য বিকল্প পথগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। আমাদের অবশ্যই চেষ্টা করতে হবে রাজস্ব প্রণোদনা এবং মুদ্রানীতির মাধ্যমে অর্থ সরবরাহের ব্যবস্থা করা। এখনো সরকারের হাতে বিভিন্ন উপকরণ আছে। আমরা দেখেছি ১ শতাংশ সিআরআর কমানো হলে ১২ হাজার কোটি টাকার মতো তারল্য বাড়ে। এ ধরনের উপাদান এখনো সরকারের হাতে আছে।’

স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতের সংকট যত ঘনীভূত হবে, আর্থিক খাতের সংকট তত ঘনীভূত হবে। এ জন্য স্বাস্থ্য খাতকে এখন অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্য খাতের জন্য ২৫০ কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এটাকে আরও বাড়াতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সরকার যে প্রণোদনাগুলো দিয়েছে, তার উদ্দেশ্য অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা, চাহিদাকে চাঙ্গা রাখা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখা, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখা এবং বাজারে সরবরাহ সচল রাখা। যাতে উৎপাদন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার মাধ্যমে বাজারে জিনিসপত্র থাকে এবং বাজারের জিনিসপত্র যেন মানুষ কিনতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতির বড় শক্তির জায়গা ৮০-৮৫ শতাংশ অভ্যন্তরীণ চাহিদার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ জন্য আমরা যে প্যাকেজটির কথা বলেছি, এর মাধ্যমে চাহিদাকে চাঙ্গা করতে পারব এবং এটার মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারব।