দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে কয়েক ধাপে প্রায় এক মাসের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময় পুরো দেশ অনানুষ্ঠানিক লকডাউনে রয়েছে। জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়া অন্য সব কারখানা-অফিস বন্ধ রয়েছে। তবে গ্রাহকদের জরুরি অর্থের প্রয়োজন মেটাতে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রয়েছে। তবে ব্যাংকিং সেবা দিতে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন তাদের জন্য ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘বিশেষ প্রণোদনা ভাতা’ দেওয়া হবে। গতকাল এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
গতকাল ‘করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিকালীন ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ প্রণোদনা ভাতা প্রদান’ শীর্ষক সার্কুলারে বলা হয়েছে, গত ২২ মার্চ জারি করা সার্কুলারে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এর কমিউনিটি ট্রান্সমিশন রোধকল্পে ব্যাংকগুলোকে ১৬ দফা নির্দেশনা প্রদানপূর্বক তা যথাযথভাবে অনুসরণের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। পরে ৮ এপ্রিল জারি করা অপর সার্কুলারে ব্যাংকে আসা বিভিন্ন ভাতা গ্রহণকারীসহ গ্রাহক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যাংকে আসার পর যাতে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখেন সে বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা গ্রহণ করার নির্দেশনাও প্রদান করা হয়েছে। সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারির পরও ব্যাংকিং দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কিছুসংখ্যক ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারী ইতিমধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিকালীন ব্যাংকিং খাতকে সচল রাখতে যারা তাদের জীবন ও পরিবারকে ঝুঁকিতে রেখে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন তাদের দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ প্রণোদনা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী সাধারণ ছুটির সময়ে ব্যাংকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করেছেন বা করছেন, তারা বিশেষ প্রণোদনা ভাতা পাবেন। এ ক্ষেত্রে সাধারণ ছুটির সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কমপক্ষে ১০ কার্যদিবস সশরীরে ব্যাংকে কর্মরত থাকলে তা পূর্ণ মাস হিসেবে গণ্য হবে। তবে ১০ কার্যদিবসের কম সশরীরে ব্যাংকে কর্মরত থাকলে সে ক্ষেত্রে আনুপাতিক হারে ওই ভাতা পাবেন। ব্যাংকের স্থায়ী, অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এই ভাতা পাবেন।
কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ মাসিক বিশেষ প্রণোদনা ভাতা হিসেবে পাবেন। যেসব অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর মূল বেতন আলাদাভাবে নির্ধারিত নেই তারা মাসিক মোট বেতন-ভাতার ৬৫ শতাংশ মাসিক বিশেষ প্রণোদনা ভাতা হিসেবে পাবেন। তবে সব ক্ষেত্রেই এ বিশেষ প্রণোদনা ভাতার পরিমাণ মাসিক ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা হবে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ ছুটি শুরু হওয়ার দিন থেকে মাস গণনা শুরু হবে। প্রতি ৩০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর পুনরায় নতুন মাস গণনা শুরু হবে। আর্থিক প্রণোদনা প্রদানের জন্য নিচের নীতিমালা অনুসরণের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির মেয়াদকাল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলেও সার্কুলারে বলা হয়েছে।