বিদায়ী আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী জানিয়েছেন, পুলিশকে জনবান্ধব করাই ছিল তার প্রধান উদ্দেশ্য। গত মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরে অনলাইনে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল
পুলিশকে জনবান্ধব ও ইমেজ বৃদ্ধি করা। আমার মনে হয়, আমরা অনেকটা সফল হয়েছি। কারণ এ সংকটপূর্ণ মুহূর্তে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন পুলিশ কীভাবে মানবিক কাজগুলো করছে।
ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, আমার আরেকটি টার্গেট ছিল থানাগুলো যেন মানুষের আস্থার জায়গা হয়। থানার ওসি যেন জনগণের ওসি হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ পুলিশ প্রম অস্ত্র হাতে যুদ্ধে নেমেছিল। এবার ২০২০ সালে নতুন আরেকটি যুদ্ধে নেমেছে পুলিশ। এ যুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের কোনো ট্রেনিং না থাকলেও আমরা মাঠে আছি, লড়ে যাচ্ছি। করোনাভাইরাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, করোনা মোকাবিলায় প্রম থেকেই মাঠে ছিল পুলিশ। যারা বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছে সেসব প্রবাসীকে ঘরে রাখতে তাদের খোঁজখবর নিতে কাজ করেছে পুলিশ। এমনকি সারা দেশে হাটে, মাঠে, ঘাটে, মসজিদে এবং মন্দিরে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছে। জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, দেশবাসীর উদ্দেশে আমি বলতে চাই, আপনারা ঘরে থাকুন, আমরা আপনাদের জন্য মাঠে রয়েছি। তিনি বলেন, জনগণের ফোন পেয়ে পুলিশ এখন দ্বারে দ্বারে গিয়ে খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছে। অনেকে মারা যাচ্ছেন যাদের স্বজনসহ অন্যরা মরদেহের কাছে আসছেন না। পুলিশ তাদের দায়িত্ব নিয়ে দাফন করছে। এছাড়াও অনেক এলাকা, অনেক সড়ক লকডাউন হয়েছে। করোনার ঝুঁকিতে সেখানে কাউকে চলাফেরা করতে দেওয়া হয় না। অথচ সেখানেও রাস্তায় দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ।
বড় সাফল্য ‘নিয়োগ প্রক্রিয়া’ ও ‘৯৯৯’ : নিজের কর্মজীবনের সাফল্যের কথা তুলে ধরে ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, পুলিশের ইমেজের কথা এলেই নিয়োগ, পদায়ন ও পদোনড়বতির কথা আসত। আমার সময়কালে আমি এগুলো স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় করতে সক্ষম হয়েছি। এখন পুলিশ সদস্যরা বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে পুলিশে মেধা দিয়ে নিয়োগ-পদোনড়বতি হয়। বিশেষ করে কনস্টেবল ও এসআই নিয়োগ ছিল একদম স্বচ্ছ। ১০৩ টাকা দিয়েই চাকরি পেয়েছে। তদবির করে চাকরি নিতে হয়নি কারোর। জরুরিসেবা ‘৯৯৯’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিদিন এই ‘৯৯৯’ নম্বরে আমরা অসংখ্য কল পাচ্ছি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত আমরা দুই কোটি কল পেয়েছি। ৫৮ লাখ লোককে সহযোগিতা করেছি। বর্তমানে করোনার প্রাদুর্ভাবের দিনগুলোতে ৯৯৯-এ দ্বিগুণ ফোন আসছে। আমরা ফোন পেয়ে তাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছি। এক প্রশেড়ব বিদায়ী আইজিপি সাংবাদিকদের বলেন, চাকরি জীবনে প্রতিদিনই নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। যেমন এখন দেশে যে করোনা পরিস্থিতি চলছে, তিন মাস আগেও কেউ ভেবেছিল যে এখন এমন পরিস্থিতি হবে?
নতুন আইজিপির প্রসঙ্গে : নতুন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের বিষয়ে এক প্রশেড়বর জবাবে জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, বেনজীর আহমেদ একজন মেধাবী, যোগ্য ও চৌকস পুলিশ অফিসার। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাবে বলে আশা করছি।