দলীয় ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের ত্রাণ কমিটি গঠনসহ তিনটি নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজধানীর ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব নির্দেশনা দেন প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা করোনা সংকট মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত বিভিনড়ব পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং বিভিনড়ব সাংগঠনিক নির্দেশনা দেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সাংগঠনিক নির্দেশনাগুলো হলো সারা দেশে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে ত্রাণ কমিটি গঠন করতে হবে। সকল সাংগঠনিক উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দকে অতিদ্রুতই ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ত্রাণ কমিটি প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক জেলা শাখায় জমা দিতে হবে। এই ত্রাণ কমিটি ওয়ার্ড পর্যায়ে দল-মত নির্বিশেষে প্রকৃত দরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় মানুষের তালিকা প্রস্তুত করবে এবং ওই তালিকা স্থানীয় প্রশাসনকে প্রদান করে সঠিক তালিকা প্রণয়নে সহায়তা ও সমন্বয় করবে। একই সঙ্গে এই কমিটি মানুষের মানবিক সংকটে সার্বিক সহযোগিতা এবং ত্রাণ বিতরণ
কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দিতে সহযোগিতা করবে।
শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে ৫০ লাখ হতদরিদ্র, দুস্থ, অসহায় ও কর্মহীন খেটে খাওয়া মানুষকে সরকারিভাবে রেশন কার্ডের আওতাভুক্ত করা হয়েছে এবং করোনাভাইরাসে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় আরও ৫০ লাখ মানুষকে রেশন কার্ডের অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি দল-মত নির্বিশেষে সমাজের হতদরিদ্র, দুস্থ, অসহায় ও কর্মহীন খেটে খাওয়া মানুষ যাতে অন্তর্ভুক্ত হয় সে ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান করবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের এই ত্রাণ কমিটি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যথাযথ সরকারি নির্দেশনা পালন, সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য জনগণকে সচেতন করবে এবং মানবিক সংকটে জনগণের পাশে দাঁড়াবে। পাশাপাশি স্থানীয় আওয়ামী লীগের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।