কুষ্টিয়ার খোকসায় সৎমায়ের আক্রোশের শিকার স্কুলছাত্রী পুষ্মিতা রানী দাস বৃষ্টিকে (১৫) হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার তার বৈমাত্রেয় মামা (সৎমায়ের ভাই) প্রদীপ কুমারকে (৩৫) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ৩টায় খোকসা উপজেলার কাদিরপুর গ্রামে নিজ কক্ষ থেকে বৃষ্টির মাথা থেঁতলানো লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, হাতুড়িজাতীয় কোনো লোহার জিনিস দিয়ে মাথায় আঘাত করে বৃষ্টিকে হত্যা করা হয়েছে। পরে ওই রাতে প্রদীপকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় গতকাল বৃষ্টির মামা কুষ্টিয়া পৌর এলাকার ১০নং আমলাপাড়া ওয়ার্ডের বাসিন্দা অমিত কুমার দাস সৎমা সুচিত্রা রানী দাস ও তার ভাই প্রদীপের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, শমসপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী বৃষ্টি ছোটবেলায় মাকে হারায়। পরে বাবা গৌতম দাস কুমারখালী উপজেলার সুচিত্রা রানী দাসকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই বৃষ্টির প্রতি ক্রোধান্বিত ছিলেন সুচিত্রা। ঘটনার দিনের আগেও একাধিকবার বৃষ্টিকে লাঞ্ছিত করেন তিনি। একপর্যায়ে নির্যাতনের মাত্রা বাড়াতে যুক্ত করেন ভাই মাদকাসক্ত প্রদীপকে। ঘটনার দিন ওই বাড়ি থেকে হন্তদন্ত হয়ে প্রদীপকে বেরিয়ে যেতে দেখেন প্রতিবেশীরা। এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে খোকসা থানার ওসি মজিবর রহমান বলেন, এদের মধ্যে পূর্ব থেকেই পারিবারিক সম্পর্কে টানাপড়েন ছিল। সেই সঙ্গে মাদকাসক্ত প্রদীপের সঙ্গে বৃষ্টির বাবা গৌতমের আর্থিক লেনদেনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্পর্কের তিক্ততা তার সঙ্গে বিমাতাসুলভ ক্রোধ একত্রিত হয়ে এ হত্যাকাণ্ড। এদিকে বৃষ্টির বাবা বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই বৃষ্টির সঙ্গে সুচিত্রার বনিবনা হয়নি। বাড়ি না থাকলে সে মেয়েকে মারধর করত। এখন মেয়েটাকে পরিকল্পিতভাবে ভাইকে দিয়ে মেরেই ফেলল।’