স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিন

করোনায় মৃত অর্ধশত, এক দিনে রেকর্ড ২১৯ শনাক্ত

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে দেশে মোট অর্ধশত লোকের মৃত্যু হলো। অন্যদিকে দেশে একদিনে রেকর্ড ২১৯ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল বুধবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে আরও জানানো হয়, পূর্বের আক্রান্তদের মধ্য থেকে আরও সাতজন সুস্থ হয়েছেন। একদিনে সুস্থ হওয়ার এই সংখ্যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্ত ১ হাজার ২৩১ জনের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৯ জন।

বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, মৃত চারজনের মধ্যে একজন চিকিৎসক রয়েছেন, তার বয়স ৫০ বছর। দুইজন আছেন সত্তরোর্ধ্ব। অন্যজনের বয়স ৩৫-৪০ এর মধ্যে, তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। তাদের তিনজন পুরুষ ও একজন মহিলা।

তিনি জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মোট নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ২ হাজার ৪৮ জনের। পরীক্ষা করা হয়েছে ১ হাজার ৭৪০ জনের। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৭১ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন মোট ৪৩৩ জন। ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ১১ হাজার ২২৮ জনকে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ৫৪২ জনকে। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ৩৯ হাজার ৩৮৯ জন। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ২৫৫ জন। তাদের প্রত্যেককে স্কাউনিং করা হয়েছে।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়, এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৪ হাজার ৮৬৮ জনের। পিপিই বিতরণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৫৮ হাজার ২৯৪টি। বর্তমানে মজুদ আছে আরও ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৩২২টি। স্বাস্থ্য বাতায়ন-১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে ২৪ ঘণ্টায় কল এসেছে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৩৭টি।

বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সরকারি ও বেসরকারি যেসব হাসপাতালকে করোনার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলোতে আক্রান্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা নমুনা ও পরীক্ষা সংখ্যা বৃদ্ধি করছি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এ সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে সারা বাংলাদেশের পরিস্থিতি আমরা বুঝতে পারব। কোথাও হয়তো কমবে, কোথাও হয়তো একটাও রোগী পাব না আবার কোথাও হয়তো বাড়বে। অবস্থা দেখার পর যেখানে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার নেওয়া হবে। নির্দেশনা মানার ক্ষেত্রে অবহেলা না করতে সবাইকে সতর্ক করে আবুল কালাম আজাদ বলেন, যারা সংক্রমিত হবেন, তাদের অধিকাংশেরই কোনো লক্ষণ দেখা যাবে না। কারও ক্ষেত্রে লক্ষণ খুব অল্প মাত্রায় দেখা দেবে এবং তারা নিরাময়যোগ্য। তবে বিশেষ করে যাদের বয়স বেশি এবং যাদের অন্য রোগ আছে তাদের অকালে মৃত্যুবরণ করতে হবে কি না এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে বলতে পারি না।

এমনকি অন্য বয়সের যারা, দুয়েকটি ক্ষেত্রে তাদের বেলায়ও এরকম চরম পরিণতি ঘটতে পারে। সুতরাং নিজেকে ও পরিবারকে রক্ষা করতেই সবাইকে নির্দেশনা মেনে ঘরে অবস্থান করতে হবে।