দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে গেলে চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, ‘জনগণ প্রয়োজন ছাড়া বাজারে ও বাইরে ঘোরাফেরা করছে। এভাবে ঘোরাফেরা করলে সংক্রমণ বেড়ে যাবে। তখন চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। আপনারা ইউরোপ-আমেরিকার দিকে দেখেন, চিকিৎসা দিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমরা সেই পরিস্থিতিতে যেতে চাই না। সবাই ঘরে থাকুন ও লকডাউন মেনে চলুন।’ গতকাল বুধবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিন ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে নতুন আরও ২১৯ জন শনাক্ত ও ৪ জন মৃত্যুবরণ করার তথ্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কিছু এলাকায় রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন নারায়ণগঞ্জ, মিরপুর, বাসাবো এবং নতুন করে গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও কেরানীগঞ্জে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এসব এলাকায় লকডাউন আরও কঠিন করতে হবে।
সারা দেশে বর্তমানে প্রায় ২০টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেকে পরীক্ষা করাতে চান না। এটা একটা বিরাট সংকট। তারা নিজেরা আক্রান্ত হবেন, পরিবারকে আক্রান্ত করবেন এবং চিকিৎসককেও আক্রান্ত করবেন। আমার অনুরোধ আপনারা পরীক্ষা করুন, নিজে ভালো থাকুন, পরিবারকেও ভালো রাখুন। এই যুদ্ধে আমরা জয়লাভ করবই ইনশা আল্লাহ।
মন্ত্রী জানান, রোগী বাড়তে থাকায় আরও কিছু নতুন হাসপাতাল করোনা চিকিৎসায় সংযোজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজের পুরনো বার্ন ইউনিট, নগর হাসপাতাল, রেলওয়ে হাসপাতাল রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ ও আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালও এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। হাসপাতাল দুটিতে প্রায় ১২০০ শয্যা রয়েছে বলে জানান তিনি।
সব বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যার আইসিইউসহ হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি জেলা শহরে ৫০-১০০ শয্যার কভিড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।