নীলফামারীতে টিসিবির পণ্য চাহিদা বেশী সরবরাহ কম

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি প্রতিরোধে লকডাউন করা হয়েছে গোটা নীলফামারী জেলা। ঘরবন্দী জেলার মানুষ। এর পরেও সংক্রমণ আতঙ্ক রেখেই সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করতে বের হতে হচ্ছে মানুষকে।

বৃহস্পতিবার নীলফামারী জেলা সদরে শুরু হয়েছে টিসিবির পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম। সকাল ৯টায় জেলা শহরের ডিসির মোড়ে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে ভোজ্য তেল, চিনি, মসুর ডাল ও ছোলা বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়।

সকাল ১০টার দিকে দেখা যায়, টিসিবির এসব পণ্য ক্রয় করতে মানুষের ভিড়। ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের এক দিকে নারী ক্রেতা ও অন্য দিকে পুরুষ ক্রেতার র্দীঘ লাইন। দুই প্রান্তে নারী-পুরুষদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পণ্য বিক্রয়ে টিসিবির পরিবেশকে সহযোগিতা করছেন পুলিশ সদস্যরা।

ক্রেতাদের দীর্ঘ দুটি লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য ক্রয় করতে দেখা গেছে। কিন্তু ক্রেতাদের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ছিল কম।

এ সময় ক্রেতাদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, বাজারে চাল, ডাল, চিনি, তেলের দাম বৃদ্ধি হয়েছে দেশে করোনা সংক্রমণ ছাড়ানোর পর পরই। সেই বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় নি¤œআয়ের মানুষের জন্য ১০টা কেজি দরের চাল ও ১৮টাকা কেজি দরে আটা বিক্রয় শুরু করে। সেখানে মানুষের সমাগম বেশি এবং সামাজিক দূরত্ব সঠিক ভাবে পালন না হওয়ায় করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি থাকায় সরকার বিশেষ ওয়েমেস কর্মসূচির ১০টা কেজি দরের চাল বিক্রয় বন্ধ ঘোষণা করে। তবে টিসিবির পন্য বিক্রয় কার্যক্রম অব্যহত রাখায় মানুষ কিছুটা হলেও সাধ্যের মধ্যে কিনতে পারছে।

জেলা শহরের শাহীপাড়া মহল্লার ইউনুস আলী মুন্না (৪১)। পেশায় একটি ভোগপণ্য কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি। তিনি বলেন, ‘এখানে এসে এক কেজি চিনি, তেল দুই লিটার কিনলাম। বেশী কেনার ইচ্ছা থাকলেও তারা বেশি দিচ্ছেন না।’

জেলা শহরের কুখাপাড়া গ্রামের ফেরদৌস আলম (৪৪) বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে লাইনে দাঁড়িয়ে  তেল চিনি কিনলাম। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম দিচ্ছে। চাহিদা মতো সরবারহ পাওয়া গেলে বাজারেও এসব পণ্যের দাম কমে আসবে।’

নীলফামারী শহরের টিসিবির ডিলার সত্যেন্দ্র নাথ রায় বলেন, গত ১ এপ্রিল থেকে টিসিবির পণ্য বিক্রয় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এবারই প্রথম সরবরাহ পেয়েছি। সরবরাহ পাওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে ভোজ্য তেল তিন হাজার লিটার, চিনি তিন মেট্রিক টন, ছোলা দুই হাজার ৪০০ কেজি, মসুরডাল ৪৫০ কেজি। এসব পণ্য তিন দিনে সমহারে ভ্রাম্যমান ট্রাকে পৃথক স্থানে বিক্রি করতে হবে। এ কারণে ক্রেতাদের চাহিদামত দেওয়া যাচ্ছে না। সকলকে সমহারে দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে কথা বললে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আজাহারুল ইসলাম বলেন, এপ্রিল মাসে আমরা জেলা সদরের টিসিবির পণ্য বরাদ্দ পেয়েছি। বৃহস্পতিবার থেকে বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ডিলাররা পালাক্রমে নির্দিষ্ট পরিমাণ ওইসব পণ্য উত্তোলন করে বিক্রয় করবেন। পুরা রমজান মাসে এ সেবা অব্যাহত থাকবে।