করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নগরবাসীর অভিযোগ, করোনা নিয়ে সবাই আতঙ্কে থাকলেও সিটি কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। বিভিণ্ণ এলাকা ও অলিগলি পরিষ্কার-পরিচ্ছণ্ণ দূরে থাক, প্রয়োজনীয় জীবাণুনাশক পর্যন্ত ছিটানো হচ্ছে না। এতে নগরীতে রোগবালাই ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, করোনা পরিস্থিতিতে ২০ টন ব্লিচিং পাউডার কেনা হয়েছে। বছরব্যাপী এগুলো নগরীর অলিগলিতে ছিটানো হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তের পর থেকে সারা দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। চট্টগ্রামের বেশির ভাগ মানুষ ঘরবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। এতে নগরীর ময়লা-আবর্জনার পরিমাণ কমে গেছে। কমেছে সিটি কর্তৃপক্ষের এ-সংক্রান্ত কাজের চাপ। এই সুযোগে নগরবাসী প্রত্যাশা করেছিলেন, করোনা প্রতিরোধে অলিগলি সব জায়গা জীবাণুমুক্ত করা হবে। কিন্তু বাস্তবে সিটি কর্তৃপক্ষ লোক দেখানো কার্যক্রম চালাচ্ছে। শুধু দিনভর ফাঁকা মহাসড়কগুলোতে জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে। অলিগলিতে কোনো কার্যক্রম নেই। এ নিয়ে নগরবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বাকলিয়া ওয়ার্ডের ডিসি রোডের নাছির উদ্দিন জানান, তাদের এলাকা খুবই ঘনবসতিপূর্ণ। করোনার কারণে সবাই ঘরে অবস্থান করছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা এই এলাকায় জীবাণুনাশক কিংবা ব্লিচিংমিশ্রিত পানি ছিটাতে দেখেননি। তিনি আরও জানান, এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ চলছে। অধিকাংশ রাস্তাঘাট কাটা। একটু বাতাস হলেই ধুলাবালি ওড়ে। চলাচলেও কষ্ট হয়। চান্দগাঁও খতিব বাড়ি এলাকার ফয়সাল আহমেদ জানান, বর্ষা এলে নর্দমা-খাল পরিষ্কার আর মশার প্রাদুর্ভাব বাড়লেই কেবল ওষুধ ছিটানো হয়। আগে থেকে সিটি কর্তৃপক্ষ কিছুই করে না। সড়কে দীর্ঘদিনের ময়লা পড়ে রয়েছে। করোনা আতঙ্কের মধ্যেও ছিটানো হচ্ছে না জীবাণুনাশক। যেখানে ছিটানো হচ্ছে, তা লোক দেখানো, ফটোসেশনের জন্য।
মানবাধিকার কমিশনের ডেপুটি গভর্নর আমিনুল হক জানান, করোনা প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছনড়বতা এবং জীবাণুমুক্ত পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য চসিক কর্তৃপক্ষের উচিত, ৪১টি ওয়ার্ডের অলিগলিতে ব্লিচিং পাউডারমিশ্রিত পানি ছিটানো। চসিকের ৮ নম্বর শুলকবহর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোরশেদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডের বিভিনড়ব এলাকায় চারজন পরিচ্ছনড়বতাকর্মী মশানিধনে ওষুধ ও জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছে। সিটি করপোরেশনের দেওয়া ওষুধের বাইরেও আমি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ওষুধ কিনে দিয়েছি।’
এ বিষয়ে চসিকের প্রধান পরিচ্ছণ্ণতা কর্মকর্তা শফিকুল মাণ্ণান ছিদ্দিকী বলেন, ‘শুধু অভিযোগ দেখলে হবে না। চসিকের পরিচ্ছণ্ণ বিভাগের সক্ষমতাও দেখতে হবে। কম জনবল নিয়েও নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের সড়কগুলোতে প্রতিদিন ৪২ হাজার লিটার করে জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে। ৩ হাজার ২০০ কর্মী প্রতিদিন এসব কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।’
এ বিষয়ে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামুসুদ্দোহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখন সবাই গৃহবন্দি। আমরা ওষুধ ছিটাচ্ছি কি না তারা কীভাবে দেখছেন? প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিদিন চারজন করে মশা ও জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছে। এ ছাড়া নগরীর বিভিনড়ব সড়কে ৪২ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার তিনটি ভাউজারে প্রতিদিন ব্লিচিং পাউডারমিশ্রিত পানি ছিটানো হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে ২০ টন ব্লিচিং পাউডার কেনা হয়েছে। এগুলো বছরব্যাপী নগরীতে ছিটানো যাবে। করোনা পরিস্থিতির উনড়বতি না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।’