করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেই ২৬ এপ্রিল পোশাক কারখানা চালুর চিন্তা করছেন মালিকরা। এজন্য বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) দেশের বিভিনড়ব জায়গা থেকে শ্রমিক আনতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) চেয়ারম্যানের কাছে বিশেষ বাস বরাদ্দ চেয়েছে। আপাতত দেশের পাঁচটি জায়গা থেকে শ্রমিকরা এই বাস সুবিধা পাবে। তবে বিজিএমএই বলছে, আপাতত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে। বিআরটিসির কাছে গত বুধবার এই বাস চেয়ে চিঠি দেন বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক।
চিঠিতে বলা হয়, ‘আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কিছু কারখানা চালু করতে চান মালিকরা। কারখানাগুলো মার্চ মাসের বেতনভাতা পরিশোধ করছে। এ সময় অধিকাংশ শ্রমিক ঢাকার বাইরে গ্রামগঞ্জে অবস্থান করায় তারা বেতন-ভাতা সংগ্রহ করতে পারছে না। কারখানা পরিচালনা ও বেতন-ভাতা প্রদানের উদ্দেশ্যে বিভিণ্ণ এলাকা থেকে আগামী ২০ এপ্রিল থেকে শ্রমিকদের গাজীপুর, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা আনার জন্য আগের মতো আপনার সার্বিক সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, কিছু কারখানা চালুর চিন্তা আছে, যাদের অর্ডার রয়েছে। শিপমেন্ট দিতে হবে। তবে সব নির্ভর করবে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর। পরিস্থিতি খারাপ হলে বাস চাওয়ার চিঠি প্রত্যাহার করা হবে। আমরা চাই শ্রমিকদের নিরাপদে রেখে পুরো সেক্টর টিকিয়ে রাখতে। যারা কারখানা খুলবেন, তারা নিজেদের শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই খুলবেন। শ্রম আইনের যেন ব্যাঘাত না হয়।
বিআরটিসির কাছে পাঠানো চিঠির অনুলিপি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীকেও দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আপনি অবগত আছেন করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশও এক কঠিন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। কিন্তু প্রায় এক মাস ধরে এদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের ৮৪ শতাংশ অর্জনকারী রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প খাত বন্ধ রয়েছে। ফলে দেশের অর্থনীতি চরম সংকটের মুখোমুখি। ইতিমধ্যে সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কিছু কারখানা চালু করতে চায় মালিকরা।’
চিঠিতে যেসব এলাকা থেকে অধিক সংখ্যক শ্রমিক আসবে তা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো ময়মনসিংহ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, মানিকগঞ্জ, বগুড়া।
এতে আরও বলা হয়, ‘উল্লিখিত এলাকাগুলো থেকে শ্রমিকরা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে ঢাকায় আসার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক বাস বরাদ্দ দিয়ে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পকে সার্বিকভাবে সহযোগিতার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।’