এখন ঘাবড়ে না গিয়ে মাথা ঠাণ্ডা রেখে সংসার পরিচালনা করতে হচ্ছে
গৃহিণীদের। তাই সংসার পরিচালনা করতে বাজেট ও রুটিন করে নিলে ভালো। কেনাকাটার সময় অতি প্রয়োজনীয় খাবার কিনুন। খাবার সংরক্ষণ করতে গিয়ে অহেতুক বাড়তি খাবার কিনে রাখবেন না। এ সময় খাবার অপচয় ও বিলাসিতা বন্ধ রাখুন। তাহলে খরচ কমিয়ে আনা যাবে অনেকটাই। সাত থেকে দশ দিনের হিসাব করে সপ্তাহে এক দিন বাজার করুন। কাঁচাবাজার করার সময় যেসব সবজি বেশ কয়েক দিন রেখে খাওয়া যাবে, সেগুলো কিনুন। কিছু সবজি কেটে ভাপ দিয়ে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন। কোনো কোনো সবজি ধুয়ে, কেটে, রোদে শুকিয়ে জিপল্যাক প্যাকে ভরে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। এই ফ্রোজেন সবজি অনেক দিন ব্যবহার করতে পারবেন। শসা, গাজর, মুলা, বিট ও পেঁয়াজের মতো কিছু সবজি অনেক দিন ভালো থাকে ভিনেগারের পানিতে। সেজন্য পানি আর ভিনেগার নিন সমান মাপে, তার সঙ্গে স্বাদমতো লবণ আর চিনি মেশান। মিশ্রণ ফুটিয়ে নিন ভালো করে। এরপর ঠাণ্ডা করে তাতে সবজি ভেজান। এর মধ্যে দারুচিনি, লবঙ্গ, মেশালেও রানড়বা করার পর খেতে ভালো লাগবে। ডাঁটা, শিম, পটোলের মতো সবজি কিচেন টিস্যু দিয়ে মুছে খবরের কাগজ দিয়ে পেঁচিয়ে ফ্রিজের নরমাল তাপমাত্রায় রাখলে অনেক দিন ভালো থাকবে। বিকেলের নাশতার জন্য চিঁড়ে, মুড়ি, চানাচুর ও টোস্ট বিস্কুটের মতো শুকনো খাবার কিনে রাখুন। চেষ্টা করুন বাইরে থেকে না কিনে ঘরে বানানো খাবার খেতে।
সংরক্ষণের উপায়
মাছ ও মাংস একসঙ্গে ফ্রিজে না রেখে ছোট ছোট প্যাকেট করে রাখুন। বারবার বের করে পানিতে ভিজালে খাদ্যগুণ কমে যায়। লবণ মাখিয়ে রোদে শুকানো শুঁটকি, মাছ ও মাংস দীর্ঘদিন ভালো থাকে। যাদের ফ্রিজ নেই তারা এভাবেও মাছ, মাংস সংরক্ষণ করতে পারেন। ফ্রিজে খাবার প্লাস্টিক র র্যাপ বা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দিয়ে ঢেকে রাখা উচিত। রানড়বা করা খাবার ফ্রিজের নিচের অংশে সংরক্ষণ করাই শ্রেয়। খাবার কখনোই চার দিনের বেশি ফ্রিজে রেখে খাওয়া ঠিক নয়। ফ্রিজে রাখা খাবারের বক্সগুলোর মধ্যে কিছুটা জায়গা ফাঁকা রাখতে হবে। যাতে ভেতরে বাতাস চলাচল করতে পারে। খাবার সংরক্ষণে গুরুত্ব দিতে হবে পাত্রে। ফ্রিজে খাবার রাখতে বিপিএ-ফ্রি লেবেল লাগানো প্লাস্টিকের কনটেইনার ব্যবহার করা যেতে পারে। কাচের এয়ারটাইট কনটেইনারে খাবার রাখা যায়। ফ্রিজে এক টুকরো কাটা লেবু রাখুন। এতে এক খাবারের গন্ধ অন্য খাবারে প্রবেশ করবে না। টমেটো কেচআপ, জ্যামের জার যতটা সম্ভব টাইট করে লাগিয়ে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা উচিত। পনির বা মাখন প্লাস্টিকের ব্যাগে সংরক্ষণ করবেন না। টমেটো, পেঁয়াজ, আলু ও টকজাতীয় ফল ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। খাবারের স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। আপেল ঘরের তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যেতে পারে। অনেকেই ডিম ও দুধ ফ্রিজের দরজায় লাগানো তাকে সংরক্ষণ করেন। এটা ঠিক নয়। ফ্রিজের দরজা খোলা ও বন্ধ করার সময় ভেতরের তাপমাত্রায় তারতম্য হয়। এতে এগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই ফ্রিজের শীতল অংশেই এসব রাখা উচিত।