ডায়াবেটিসে দাঁতের ক্ষতি

বশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। আমাদের দেশে এই রোগীর সংখ্যা প্রায় ২৬ লাখেরও বেশি। ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, যা মুখসহ পুরো শরীরকে প্রভাবিত করতে পারে। ডায়াবেটিস দাঁত ক্ষয় থেকে শুরু করে শরীরের অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নানা সমস্যা সৃষ্টির জন্য দায়ী। ডায়াবেটিস হলে রোগীদের মুখে কী কী সমস্যা হয়, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটা থেকে রোগীদের আরও মারাত্মক কিছু হতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের জিনজিভাইটিস বা মাড়ির প্রদাহ এবং ডেন্টাল ক্যারিজ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আমরা জানি, শরীরে রক্তপ্রবাহের কাজ হচ্ছে কোষে অক্সিজেন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান বহন করা এবং অবশিষ্ট বাজে উপকরণ বের করে আনা।

কিন্তু ডায়াবেটিসের কারণে শরীরের রক্তনালিগুলো সরু হতে থাকে। ফলে দেহের স্বাভাবিক রক্তসঞ্চালন ব্যাহত হয়। এর ফলে দেহের সব অংশের অক্সিজেন এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান সঠিকভাবে পৌঁছায় না। এ ছাড়া ডায়াবেটিস রোগীর স্যালাইভা বা লালা নিঃসরণ কমে যায়। ফলে মুখ সর্বদা শুষ্ক থাকে, এর ফলে দাঁতের গোড়ায় প্লাক বা খাদ্যকণা বেশি পরিমাণে জমা হতে থাকে। ফলে সহজেই সেখানে ইনফেকশন হয়। মাড়ি লাল হয়ে ফুলে ওঠে এবং স্পর্শ করলে রক্তপাত ও সেখান থেকে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়।

এই ইনফেকশনের দরুন মাড়ির সঙ্গে দাঁতের সংযোগ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে মাড়ির হাড় ক্ষয় হতে থাকে এবং দাঁত নড়তে শুরু করে, সঙ্গে ব্যথা হয়। সে ক্ষেত্রে আমরা চিবিয়ে খাবার খেতে পারি না। লিভার ও হজমে সমস্যা দেখা দেয়। অধিকাংশ ডায়াবেটিস রোগী মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, দাঁতের ব্যথা ও মুখে বিভিন্ন ধরনের ক্ষত নিয়ে চিকিৎসা গ্রহণে অবহেলা করে। গবেষকরা প্রমাণ করেছেন দীর্ঘমেয়াদি মাড়ি ও দাঁতের রোগ শুধু দাঁতের অপূরণীয় ক্ষতি করে মুখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না বরং সহজেই এর থেকে ক্ষতিকর জীবাণু রক্তবাহিকায় মিশে হার্টের বিভিন্ন রোগসহ স্ট্রোক পর্যন্ত করাতে পারে। প এসব থেকে প্রতিকার পেতে প্রতি ছয় মাস পরপর ডেন্টাল সার্জনের (বিডিএস) পরামর্শ নিন।

প ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের পরামর্শমতো নিয়মিত ওষুধ সেবন করুন। প সঠিক নিয়মে প্রতিদিন দুবার সকালে ও রাতের খাবারের পর দাঁত ব্রাশ করুন। যারা ডেনচার ব্যবহার করেন, তা নিয়মিত পরিষ্কার করুন। প খাবারের পর হালকা গরম জল ও লবণ দিয়ে কুলিকুচি করুন। নিয়মিত ফ্লস করুন। ব্রাশের পর অন্তত দুই থেকে তিন মিনিট আঙুলের সাহায্যে মাড়ি মাসাজ করুন। এতে মাড়ি সুস্থ ও মজবুত থাকে। প নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করুন।

ডা. শোভন কর্মকার বিডিএস

karmakar.ark@gmail.com