না-ফেরার দেশে চলে গেলেন আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী শিল্পনির্দেশক মহিউদ্দিন ফারুক (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শে নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। মহিউদ্দিন ফারুকের ছেলে শুভ্র নূর জানান, বনানীর বাসায় অচেতন হয়ে পড়েছিলেন তার বাবা। দ্রুত তাকে নেওয়া হয় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে। এর আগে কয়েক দিন হলো তার জ্বর, সর্দি ছিল। নিজে সচেতন হয়ে দরজা বন্ধ করে পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছ থেকে নিজেকে আলাদা রেখেছিলেন। ফোনে সবার সঙ্গে কথা বলতেন। চিকিৎসকের সঙ্গে ফোনে কথা বলে ওষুধও খাচ্ছিলেন। কিন্তু গতকাল দুপুরে তাকে নিজ কক্ষে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।
মহিউদ্দিন ফারুকের ভগ্নি পতি শফিকুর রহমান জানান, চিকিৎসকেরা যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেছেন, তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে মিরপুর ১০ নম্বরের জানড়বাতুল মাওয়া কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাদ আসর তাকে দাফন করা হয়।
মহিউদ্দিন ফারুক ১৯৪১ সালের ৩ মার্চ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার আড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সালে ঢাকার ‘মুসলিম হাই স্কুল’ থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন তিনি। জগনড়বাথ কলেজ থেকে ১৯৬০ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে তৎকালীন ঢাকা আর্ট কলেজে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যায়ে পড়াকালে নাটকের দল ‘থিয়েটার’-এর সঙ্গে যুক্ত হন।
যুক্ত ছিলেন প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গেও। বিশ্ববিদ্যালয় পাসের আগেই সুইডেন-পাকিস্তান ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার প্রজেক্টে চাকরি পেয়ে যান। ১৯৬৫ সালে পড়ালেখা শেষ করে ১৯৬৭ সালে তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনে যোগ দেন। ২০০০ সাল পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানেই যুক্ত ছিলেন মহিউদ্দিন ফারুক। উদয়ন চৌধুরীর ‘পুনম কি রাত’ ছবিতে শিল্পনির্দেশক হিসেবে তার চলচ্চিত্র জগতে যাত্রা আরম্ভ।
এরপর তিনি প্রায় ২০০ চলচ্চিত্রে শিল্প নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বসুন্ধরা (১৯৭৭), ডুমুরের ফুল (১৯৭৮), পিতা মাতা সন্তান (১৯৯১), পদ্মা নদীর মাঝি (১৯৯৩), দুখাই (১৯৯৭), মেঘলা আকাশ (২০০১) ও মনের মানুষ (২০১০) চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ শিল্পনির্দেশক হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। এ ছাড়া বিভিনড়ব চলচ্চিত্রে বাচসাস, প্রযোজক সমিতি পুরস্কারসহ নানা পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন শিল্পী মহিউদ্দিন ফারুক। এই গুণী ব্যক্তিত্বের সর্বশেষ শিল্প নির্দেশনায় ছিল যৌথ প্রযোজনার ‘মনের মানুষ’ সিনেমাটি। এই সিনেমার জন্যও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন মহিউদ্দিন ফারুক। শিল্পনির্দেশনার বাইরে ‘বিরাজ বৌ’ চলচ্চিত্রের পরিচালক হিসেবেও বিখ্যাত এই ব্যক্তিত্ব।