হবিগঞ্জে যুবলীগকর্মীর গুদাম থেকে টিসিবির তেল-চিনি উদ্ধার

হবিগঞ্জের ব্যবসায়ী নেতা ও যুবলীগকর্মী নোমান হোসেনের গুদাম থেকে টিসিবির ৯৮০ লিটার সয়াবিন তেল ও ৭৩ বস্তা চিনি উদ্ধার করেছে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের জগনড়বাথপুর উপজেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার রাতে নবীগঞ্জের ইনাতগঞ্জে এবং জগনড়বাথপুরের আলীগঞ্জ বাজারে অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করা হয়।

অভিযানের খবর পেয়ে ইনাতগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক  নোমান পালিয়ে গেলেও তার ভাইসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন নোমানের ছোট ভাই আমান হোসেন (৩০), কর্মচারী লিংকন রায় (৩০), সিরাজ মিয়া (৪০), আবদুল কালাম ও আবুল কালাম (৪২)।

নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদ পেয়ে রাত ১০টার দিকে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার পাল পুলিশ নিয়ে ইনাতগঞ্জ বাজারে নোমান হোসেনের দোকান ও গুদামে অভিযান চালান। সেখানে টিসিবির মালামাল না পেয়ে পাশের সুনামগঞ্জ জেলার জগনড়বাথপুরের আলীগঞ্জ বাজারে নোমানের আরেকটি গুদামে অভিযান চালান জগনড়বাথপুরের সহকারী কমিশনার ( ভূমি) ইয়াসির আরাফাত। এ সময় সেখানে লুকিয়ে রাখা টিসিবির ৫ লিটারের ১৯৬ বোতল সয়াবিন তেল এবং প্রতিটি ৫০ কেজি ওজনের ৭৩ বস্তা চিনি জব্দ করা হয়। টিসিবির ডিলাররা খোলাবাজারে ৮০ টাকা লিটার দরে সয়াবিন তেল এবং প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে চিনি বিক্রিকরে থাকেন। সে হিসাবে জব্দ করা মালামালের দাম ২ লাখ ৬০ হাজার ৯০০ টাকা।অভিযানের আগেই পালিয়ে যাওয়া ব্যবসায়ী নেতা নোমানকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।

অভিযানের ব্যাপারে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসির আরাফাত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে ব্যবসায়ী নোমানের ভাই আমান হোসেন জানিয়েছেন, নবীগঞ্জ উপজেলা সদরের টিসিবি ডিলার গালিব ট্রেডার্সের মালিক আবদুল হাদীর কাছ থেকে জব্দ করা এসব পণ্য ক্রয় করা হয়েছে।’ তবে ডিলার আবদুল হাদী ওই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘আমি গত ২০ বছর ধরে টিসিবির পণ্য বিক্রি করছি। কোনো সময়ই এ ধরনের কোনো কাজ করিনি।’ অন্যদিকে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার পাল বলেন, ‘নোমান ইনাতগঞ্জ এলাকার একজন বড় ব্যবসায়ী। তার কমপক্ষে ৩০টি ছোট-বড় গোডাউন ইনাতগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী জগনড়বাথপুর উপজেলায় রয়েছে। তিনি ডিলার না হয়েও টিসিবির মালামাল গুদামজাত করেছেন খবর পেয়ে হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইনাতগঞ্জে টিসিবির কোনো ডিলার নেই। পার্শ্ববর্তী কামারগাঁও ও বান্দেরবাজারের জামান ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক টিসিবির ডিলার। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে টিসিবির মাল কিনছেন না বলে শুনেছি। তিনি অবৈধভাবে নোমানের কাছে মাল বিক্রি করেছেন কি না খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’ তবে জামান ট্রেডার্সের মালিক জামালের দাবি, তিনি গত বৃহস্পতিবারও টিসিবি থেকে ১৫০০ লিটার তেল, ১ টন চিনি ও ১০০ কেজি ডাল উত্তোলন করেছেন।