ফরিদপুরের একটি ইউনিয়নে অতি দরিদ্রদের জন্য খাদ্য সহায়তার যে তালিকা করা হয়েছে তাতে এক সচ্ছল ইউপি সদস্যের দুই ছেলে, স্ত্রী, ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীর নাম রয়েছে। এ ঘটনা ঘটেছে নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নে। যে ইউপি সদস্যের ছেলে, স্ত্রী, ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীর নাম ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তার নাম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি ওই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।
দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে জানা যায়, কাইচাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন গত ৬ এপ্রিল তার ইউনিয়নের ১ হাজার ৯শ দরিদ্র ব্যক্তির একটি তালিকা করে জমা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। ওই তালিকার বিষয় হিসেবে লেখা হয়, ৫নং কাইচাইল ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ত্রাণকার্য ভিজিএফের (ভার্নারেবল গ্রুপ ফিডিং, অতিদরিদ্রদের জন্য খাদ্য সহায়তা) তালিকা। ওই তালিকার ২৬৭ নম্বরে রয়েছে ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীরের ছেলে সাব্বির, ২৬৮ নম্বরে অপর ছেলে ওমর সানি, ২৬৯ নম্বরে রয়েছে জাহাঙ্গীরের ভাই বিদেশফেরত (মালয়েশিয়া) বাবলু, ২৭০ নম্বরে জাহাঙ্গীরের আরেক ভাই লাবলুর স্ত্রী রেজি এবং ২৭১ নম্বরে রয়েছে জাহাঙ্গীরের স্ত্রী মাহফুজার নাম। এলাকাবাসী জানায়, ওই তালিকা করার সময় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর একশটি নাম জমা দেন। এর মধ্যে ৫০ জন কান্দী গ্রামের। ওই ৫০ জনের মধ্যে তার ছেলে স্ত্রী, ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীসহ মোট পাঁচজনের নাম রয়েছে।
গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর এবং তার ভাই সবারই পাকা দালান রয়েছে। মাঠে রয়েছে চাষের জমি এবং পাঁচ বিঘা জমির ওপর রয়েছে একটি পুকুর।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওই তালিকা গরিবদের জন্য নয়, মধ্যবিত্তদের জন্য করা হয়েছে। এলাকার একজন নাগরিক হিসেবে আমারও তো সাহায্য চাওয়া কিংবা নেওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু এ ব্যাপারে এলাকায় কথা ওঠায় আমি এখনো ওই মালামাল তুলিনি।’ অন্যদিকে কাইচাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেন বলেন, ‘তাড়াহুড়ো করে তালিকা করায় তাতে অনেক ভুল হয়েছে। এক ব্যক্তির নাম একাধিকবার এসেছে। অনেক সচ্ছল ব্যক্তির নাম ঢুকে গেছে। তবে তালিকা যাচাই-বাছাই করে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।’