করোনা মোকাবিলায় সাধারণ মানুষের মতো শোবিজ তারকারা প্রায় এক মাস ঘরবন্দি। দীর্ঘ এই অবসর সময় তারা নানা রকম সৃজনশীল ও সচেতনতামূলক কাজের মাধ্যমে পার করছেন। জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী সোহানা সাবাও হোম কোয়ারেন্টাইনের শুরুর দিকে প্রতিদিন ভিডিও বার্তা বা স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির কাজ করে আসছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি এমনিতে নিজের কাজ নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে চাই না। কিন্তু সচেতনতা সৃষ্টির জন্য আমি প্রচুর কথা বলছি। শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই নয়, ব্র্যাকসহ নানা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়েও সচেতনতামূলক কথা বলেছি। কিন্তু নতুন কিছু করার ইচ্ছা ছিল। কয়েকজন সহকর্মীকে বিষয়টি শেয়ার করি। তখনই আইডিয়া পেয়ে যাই-গৃহবন্দি গল্প নিয়ে সিরিজ শর্টফিল্ম নির্মাণের।’
প্রথমে ‘টমেটো’ নামের একটি গল্প লেখেন তারা। কিন্তু পহেলা বৈশাখ আসছে বলে তারা ‘টমেটো’ বাদ দিয়ে ‘এসো হে বৈশাখ’ নির্মাণ করেন। সিরিজ শর্টফিল্মের গল্পটি রাজধানীর একটি বহুতল ভবনকে নিয়ে, যার নাম নয়নতারা। সেখানে প্রতিটি ফ্ল্যাটে থাকা একেক রকম মানুষের একেক রকম ভাবনা, একেক রকম বৈশিষ্ট্য। এতে নিজেদের নামেই অভিনয় করছেন মেহের আফরোজ শাওন, সোহানা সাবা, নাজনীন হাসান চুমকি, সাজু আহমেদ, আমান রেজা, সাবেরী আলম ও পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেতা সৌরভ চক্রবর্তী। সোহানা সাবা বলেন, ‘এসো হে বৈশাখ করার পর যে ধরনের ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি, তাতে মনে হয়েছে কাজটি চালিয়ে যাওয়া উচিত। টমেটোর গল্প আগেই লেখা ছিল। তাই এটি নির্মাণ করে ফেলি। গত শুক্রবার রাত ৫টা পর্যন্ত জেগে সিনেমাটি এডিট করেছি। কারণ শনিবার দুপুর ১২টায় এটি প্রকাশ করার কথা। উত্তেজনায় ঘুম হয়নি, ১০টায় আবার উঠে গেছি। এটি প্রকাশের পরপরই আবার দারুণ সাড়া পেয়েছি দর্শকের কাছ থেকে। এরই মধ্যে আরও চার পাঁচটি গল্প লেখা হয়ে গেছে। সামনে আরও মজার মজার বিষয় আসবে। নতুন চরিত্রও যোগ হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিল্পীরা আসলে খুব নরম মনের। সমাজের কিছু হলে শিল্পীর মন সবচেয়ে বেশি কাঁদে। তাই সমাজের উপকারে আসে এমন কিছুতে তারা বিন্দুমাত্র দ্বিধা ছাড়াই কাজ করেন। আমাদের এই কাজটিতেও তাই হয়েছে। প্রত্যেকে একবাক্যে কাজটি করতে রাজি হয়েছে। নিজের মতো করে নিজ নিজ বাসা থেকে ভিডিও করে পাঠাচ্ছে। শুধু দেশেই নয়, আমার কলকাতার অভিনেতা বন্ধু সৌরভ ও ওমানে বসবাস করা বন্ধু অরিত্রা অতদূর থেকে ভিডিও করে পাঠাচ্ছে। সবার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা।’
শুধু সচেতনতামূলক কাজই নয়, সাবা গোপনে সাধ্যমতো অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন। আশপাশের পশুপাখিগুলোকে নিয়ম করে খাওয়াচ্ছেন। অসচ্ছল শিল্পী ও সাধারণ মানুষের পাশেও দাঁড়াচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে সাবা বলেন, ‘কে কীভাবে সাহায্য করবে তা আসলে একান্তই নিজস্ব ব্যাপার। আমার মত হলো, আমি সাহায্য করব গোপনে। আবার কেউ তা মানুষকে জানাতেও পারেন। তবে উদ্দেশ্য হতে হবে, তাকে দেখে যেন আরেকজন উৎসাহী হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইদানীং খুব দুস্থ শিল্পী নিয়ে অনেক কথা শুনছি। কথাটা শুনতেই তো কেমন লাগে। শিল্পী তো শিল্পীই, শিল্পী কখনো দুস্থ হয় না। আমি আশা করব সবাই শিল্পীর নামের আগে দুস্থ কথাটা পরিহার করুন।’