চট্টগ্রাম মেডিকেলে এখনো নেই পিসিআর মেশিন

চটগ্রামে একমাত্র ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে করোনাভাইরাস সংক্রমণের নমুনা পরীক্ষার ল্যাব রয়েছে। ল্যাবটি নগরী থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সেখানে যেতে নগরী থেকে সময় লাগে কমপক্ষে ১ ঘণ্টা। পরীক্ষা বাড়াতে নগরীর মধ্যে একটি ল্যাব স্থাপনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা পায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) কর্র্তৃপক্ষ। এরপর তারা সব প্রস্তুতি নিলেও এখনো পাওয়া যায়নি পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (পিসিআর) মেশিন। ঢাকা থেকে গত সপ্তাহে  মেশিনটি আসার কথা থাকলেও এখনো তা আসেনি।

দায়িত্বপ্রাপ্তরা কেউ বলেন, আজই (রবিবার) চলে আসার কথা। আবার কেউ বলেন, আসার কথা থাকলেও সে বিষয়ে ঢাকা থেকে কিছুই জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, চমেকের পিসিআর মেশিন তো চলে আসার কথা। কিন্তু কেন আসেনি তা তো বলতে পারব না। ঢাকা থেকে মেশিন তো শনি-রবিবারের মধ্যে আসার কথা ছিল।

চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, চমেক হাসপাতালসহ উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টের রোগী বেড়ে গেছে। এসব রোগীর মধ্যে যাদের করোনার উপসর্গ আছে তাদের পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। তাই চমেকে ল্যাব চালু হলে দ্রুত পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগে ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি ও কক্সবাজার ছাড়া কোথাও করোনা পরীক্ষাগার নেই। ফলে বিআইটিআইডিতে চাপ বেশি পড়ে।

চমেক সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বিভাগীয় শহরগুলোতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষার জন্য নতুন করে ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য গত ২৫ মার্চ কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে এ ল্যাব স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়। ইতিমধ্যে ল্যাবটি স্থাপনে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের পাশে তিনটি ক্লাসরুম প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশপাশি রোগীদের অপেক্ষার স্থান, নমুনা সংগ্রহের কক্ষ, ওয়াশরুম, গোসলখানাসহ অবকাঠামোগত সব কিছু স্থাপন প্রায় শেষ। কিন্তু পিসিআর মেশিনটি না আসায় করোনা পরীক্ষা কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না। এ নিয়ে চিকিৎসকরাই হতাশা প্রকাশ করেছেন। ঢাকার কর্মকাণ্ডে নাখোশ চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা।

চমেকের এক অধ্যাপক বলেন, ‘আমরা ল্যাবে পরীক্ষার ব্যাপারে সহকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেছি। এই দুঃসময়ে আমরা সেবা দিচ্ছি। পরীক্ষার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। এখনো যদি মেশিনের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয় তাহলে কীভাবে হবে?’

চমেক অধ্যক্ষ ডা. শামীম হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সর্বশেষ চলতি সপ্তাহের শুরুতে পিসিআর মেশিনটি আসার কথা থাকলেও আজ তো রবিবার (গতকাল), এখন পর্যন্ত আমরা কোনো খবর পাইনি। পিসিআর মেশিন পাঠাচ্ছি, পাঠাব এসব বলছে, কেন পাঠাচ্ছে না তা জানি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ল্যাবের যে অবকাঠামোর ডিজাইন করা কথা সেসব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মেশিন এলে আমরা করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার কাজ শুরু করতে পারব।’

বর্তমানে বিআইটিআইডিতে প্রতিদিন শতাধিক ব্যক্তির করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়। গত ২৬ তারিখ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৩৩৮ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়। রোগী বাড়ায় নমুনা পরীক্ষায় হিমশিম খেতে হচ্ছে বিআইটিআইডি কর্তৃপক্ষকে।

বিআইটিআইডি’র ল্যাব ইনচার্জ শাকিল আহমেদ বলেন, ‘একাধিক ল্যাব থাকলে সুবিধা সবার। যত বেশি পরীক্ষা হবে তত বেশি সেবা পাওয়া যাবে। আমাদের এখানের স্বাস্থ্যকর্মীরা ফৌজদারহাট থেকে নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে করোনা সন্দেহভাজনের নমুনাও নিয়ে আসেন। চমেকে ল্যাব হলে চাপ কমবে। আর করোনা পজিটিভ রোগীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে নগরীর আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দিতে সুবিধা হবে।

জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, সমন্বয়হীনতার কারণে এসব সংকট বাড়ছে। কিছুদিন আগে জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ শয্যার বরাদ্দ ছিল কিন্তু আনুষঙ্গিক বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। এসব নিয়ে সমালোচনা হওয়াতে পরে বরাদ্দ দিল। এরপর কিট সংকট, পরে চট্টগ্রামের নেতারা এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়ে কিট নিয়ে আসলেন। এখন ল্যাবের জন্য প্রয়োজন পিসিআর মেশিন, কিন্তু এটা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মাথাব্যথা নেই। চট্টগ্রামে ল্যাব স্থাপনসহ সব কাজ শেষ অথচ ঢাকা থেকে মেশিন পাঠাচ্ছে না। এভাবে যদি অব্যবস্থাপনার চিত্র বিদ্যমান থাকে রোগীরা কীভাবে সেবা পাবেন? অবশ্যই স্বাস্থ্যসেবার কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল হতে হবে।