ব্র্যাকের জরিপে পিপিই সংকট চিত্র

কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

করোনা চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত সব স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপককে ইচ্ছাকৃত ভুল ও অসততার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সারা দেশের সব স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপককে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। তা সত্ত্বেও যদি কারও ইচ্ছাকৃত ভুল ও অসততা প্রমাণিত হয়, তার দায়দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীকেই বহন করতে হবে।

গতকাল রবিবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ সতর্কতার কথা জানান। বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনার হাত থেকে দেশের ১৭ কোটি মানুষকে বাঁচাতে এবং এ যুদ্ধের সক সম্মুখ যোদ্ধাকে নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও ক্ষিপ্রতা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সম্প্রতি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে উঠে এসেছে, করোনা চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের ২৫ শতাংশ এবং নার্সদের ৬০ শতাংশ এখনো পিপিই পাননি। যারা পেয়েছেন তারাও রেইনকোটের মতো এসব পিপিইর কার্যকারিতা নিয়ে ‘সন্দিহান’।

এই জরিপ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৃষ্টিগোচর হয়েছে উল্লেখ করে ডা. নাসিমা বলেন, প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ক্রয় সম্পন্ন করে। একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে ক্রয় বা অনুদানের জন্য প্রস্তাবিত পিপিইগুলোর মান পরীক্ষা করে সিএমএসডি’কে (কেন্দ্রীয় ঔষধাগার) অনুমোদিত তালিকা ও নমুনা দেওয়া হয়। সিএমএসডি নির্দেশনা অনুযায়ী শুধু সেগুলোই গ্রহণ করতে পারে। তবে অনেক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান অনুদান বা অন্যান্য উৎস থেকে পিপিই গ্রহণ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব পিপিই সতর্কতার সঙ্গে মান যাচাইপূর্বক গ্রহণ ও যথাযথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এর বাইরেও পিপিইর নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও মজুদের স্বার্থে স্থানীয়ভাবে ক্রয়ের জন্য হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপকদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। এ ক্ষেত্রে মান যাচাইয়ের জন্য স্থানীয়ভাবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিধিবদ্ধ কমিটিও রয়েছে।

ডা. নাসিমা জানান, প্রতিটি নমুনা সংগ্রহের জন্য চারটি পিপিইর দরকার হয় এবং প্রতিদিন নমুনা সংগ্রহের জন্য প্রায় আট হাজার পিপিইর প্রয়োজন পড়ে। এ জন্য পিপিইর যথাযথ ব্যবহার ও অপচয় না করার অনুরোধ জানান তিনি।