‘ভাইরাস শাট আউট’ কার্ড বেচে জরিমানা গুনলেন প্রতারক

ফেইসবুকে পেজ খুলে করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত থাকার নিশ্চয়তা দিয়ে আমদানি করা একটি বিশেষ কার্ড বিক্রি করে আসছিলেন মোহাম্মদ টিপু সুলতান (৩৫) নামে এক ব্যক্তি। এভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করার দায়ে গতকাল রবিবার তাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গ্রেপ্তার টিপু সুলতানের গ্রামের বাড়ি যশোরের অভয়নগরে।

পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর উত্তরার এ বাসিন্দা ‘ভাইরাস শাট আউট’ নামে চীন থেকে আনা কার্ডগুলো ‘জি মামা’ নামে একটি ফেইসবুক পেজের মাধ্যমে বিক্রি করছিলেন। যে কার্ডটি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এবং চীনও নিষিদ্ধ করেছে। ওই পেজ ঘেঁটে দেখা গেছে নানা চটকদার বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপনে ‘ভাইরাস শাট আউট’ নামে ওই কার্ডের কার্যকারিতা সম্পর্কে বলা হয়েছে, কার্ডটি গলায় ঝুলালে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, অ্যালার্জি, ছত্রাক থেকে মুক্ত থাকা যায়। কার্ডে রয়েছে ক্লোরিন ডাইঅক্সাইড, যা আশপাশের জীবাণু ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে বাধা তৈরি করে। ঢাকার মধ্যে হোম ডেলিভারি ফ্রি উল্লেখ রয়েছে বিজ্ঞাপনে। কার্ডটি স্কুলগামী শিশুর সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকরী। কেউ গলায় মালার মতো করে একবার পরলে এক মাস পর্যন্ত করোনাভাইরাস তার তিন ফুটের মধ্যে আসতে পারবে না।

ডিএমপির কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, অনেকে বিশ্বাস করে ‘উচ্চমূল্যে’ ক্রয় করছিল এই কার্ড। অবশেষে ক্রেতার ফাঁদ পেতে তাকে আটক করেছেন রমনা জোনের পুলিশ কর্মকর্তারা। গতকাল বিকেলে মৌচাক মোড় থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে ভোক্তা অধিকার আইনের ৪৪ ধারায় তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহনাজ হোসেন ফারিবা।

ডিএমপির এক কর্মকর্তা জানান, টিপু সুলতান অনলাইনে এক ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এ কার্ডের ২ হাজার টাকা দাম চান। পরে কার্ড বিক্রি করতে এসে ধরা পড়েছেন। তিনি তার অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, টিপু সুলতানের এ কার্ড বিক্রি করার কোনো লাইসেন্স না থাকলেও তিনি আমদানি করেন। ওষুধ প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এগুলো বিক্রি করা অপরাধ। এরপরও তিনি অনলাইনে অর্ডার নিয়ে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায় এ কার্ড বিক্রি করে আসছিলেন।

এ প্রসঙ্গে ডিএমপির রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার এসএম শামীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সে একটি হাউজিং প্রকল্পে চাকরি করে। এর পাশাপাশি অনলাইনে “জি মামা” নামের পেজ খুলে করোনা প্রটেক্টর বিক্রির এ কারবার করে আসছিল। “ভাইরাস শাট আউট” নাম দিয়ে এ কারবার করছিল টিপু সুলতান। সে প্রচার করছে, এ কার্ড গলায় পরলে আশপাশে তিন ফিটের মধ্যে কোনো করোনা থাকবে না। সে জানিয়েছে, চীন থেকে ডিএইচএল কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ২০০ পিস আমদানি করেছে। কিন্তু কাস্টমস থেকে ৫০ পিস রেখে দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা তার কাছ থেকে ৫০ পিস উদ্ধার করেছি। ১০০ পিসের মতো সে বিক্রি করেছে। সে জানিয়েছে, কিনতে খরচ পড়েছে ৪০০ টাকা। আর প্রতি পিস বিক্রি করছে ১ হাজার ৭০০ টাকা। জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে কার্ডটি করোনা প্রটেক্টর নয়।’

কার্ডটিতে বিশেষ কী আছে জানতে চাইলে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এর মধ্যে কিছু রাসায়নিক পদার্থ আছে যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। হংকং ও চীন কার্ডটি নিষিদ্ধ করেছে।’