স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দিনের টানা অনলাইন প্রশিক্ষণের পর সুইডেনের রাজবধূ সোফিয়া করোনা লড়াইয়ে স্বেচ্ছাসেবী স্বাস্থ্যকর্মী হলেন। ৩৫ বছরের সোফিয়া স্টকহোমের সোফিয়াহেম্মেট হাসপাতালে কাজ করছেন। হাসপাতালটিতে তার নামে সম্মানসূচক চেয়ার রয়েছে।
সুইডিশ রাজপরিবার তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, এই সংকটে রাজবধূ নিজেকে যুক্ত করতে চান। স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশাল কাজের চাপ একটু কমাতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজে যোগ দিতে চান তিনি। সোফিয়াহেম্মেট হাসপাতাল প্রতি সপ্তাহে ৮০ জনকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে চিকিৎসার সঙ্গে সম্পর্কহীন কাজকর্মের জন্য। যেমন রান্নাঘরের কাজ, ঘর, জামাকাপড় পরিষ্কার, সব কিছু জীবাণুমুক্ত করা ইত্যাদি, যাতে চিকিৎসক-নার্সদের ওপর চাপ অল্প হলেও কমে। রাজপরিবারের ইন্সটাগ্রামের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রিন্সেস সোফিয়ার নতুন স্বাস্থ্যকর্মীর পোশাকের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। সুইডেনের রাজপুত্র কার্ল ফিলিপের স্ত্রী, ৩৫ বছরের সোফিয়া আগে মডেল ছিলেন, দুটি সন্তান রয়েছে তার।
সোফিয়া ইন্সটাগ্রামে লেখেন, ‘আমাকে হাসপাতালের কেয়ার ইউনিটে দেওয়া হয়েছে। সেখানে আরও অনেক নতুন করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সঙ্গে আমাকে কাজ করতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের বিভিন্ন কাজে আমি সাহায্য করব। এ রকম সময়ে সাহায্য করতে সুযোগ পাওয়া সত্যিই ভালো ব্যাপার।’
ইউরোপের রাজপরিবারগুলো ক্রমশই করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এগিয়ে আসছে। প্রিন্স উইলিয়াম ও কেড মিডেলটন প্রতিদিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসছেন ইতিবাচক বার্তা নিয়ে। এছাড়া প্রিন্স উইলিয়াম বার্মিংহ্যামে নাইটিঙ্গেল নামে একটি অস্থায়ী হাসপাতাল খুলেছেন করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য। ধারণা করা হচ্ছে, প্রিন্সেস সোফিয়ার মতো খুব জলদিই ডিউক অব ক্যামব্রিজ তার সাবেক পেশায় ফিরে যাবেন। তিনি ছিলেন এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের পাইলট।
গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সুইডেনে ১৭০ জনের করোয়ায় মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা ১২,৫৪০। অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের মতো লকডাউনের কড়াকড়ি শুরু না করায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বৈজ্ঞানিকরা সুইডিশ প্রশাসনের সমালোচনায় মুখর হয়েছেন।