বেলকুচিতে ১ জনের করোনা শনাক্ত, ৬ গ্রাম লকডাউন

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোপরেখী গ্রামে নারায়ণগঞ্জ ফেরত গার্মেন্টসকর্মী রজব আলীর (৬০) শরীরে করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। 

সিরাজগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রবিবার সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট তিনি হাতে পেয়েছেন। ফলে সিরাজগঞ্জ জেলায় এই প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হল।

এলাকাবাসি জানায়, করোনা আক্রান্ত রজব আলীর বাড়ি চৌহালি উপজেলার এনায়েতপুর দরবার শরীফের ৪নং গেটের পাশে। সে নারায়ণগঞ্জের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করে। গত ৫ দিন আগে সে করোনার উপসর্গ নিয়ে বাড়ি আসেন। এলাকাবাসির তোপের মুখে তিনি নিজ গ্রাম ছেড়ে বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোপরেখী গ্রামের ভায়রা মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে সাদ্দাম হোসেনের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

সেখানের লোকজন টের পেয়ে তাকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে ওই বাড়িতেই হোম কোয়ারেন্টাইনে রেখে আশপাশের ৩ বাড়ি লকডাউন করে দেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন গত বৃহস্পতিবার তার নমুনা সংগ্রহ করে জেলা সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য রামেক হাসপাতালের পরীক্ষাগারে পাঠায় । এ দিন সন্ধ্যায় পরীক্ষার ফলাফল সিরাজগঞ্জে পৌঁছায়।

রবিবার রাতেই স্থানীয় প্রশাসন দৌলতপুর ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের ৬টি গ্রাম লকডাউন করে দেয়। সোমবার সকালে বেলকুচি স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন ওই বাড়ির আরো ৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠায়। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় চরম আতংক বিরাজ করছে। 

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন জাহিদুল ইসলাম বলেন, করোনার প্রাথমিক উপসর্গ থাকায় জেলার ৭৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে দুই দফায় ৪৮ জনের প্রতিবেদন এসেছে। এর মধ্যে রজব আলীর করোনা পজিটিভ এসেছে। তার বাড়ি জেলার চৌহালী উপজেলায় হলেও তিনি অসুস্থ্য হয়ে জেলার বেলকুচিতে তার ভায়রার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। ওই বাড়ি সহ আশপাশের ৬টি গ্রাম প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে রেখেই তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বর্তমানে স্বাভাবিক আছেন। সোমবার ওনার সংস্পর্শে আসা আরো ৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। 

এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার মো. রহমত উল্লাহ বলেন, করোনা পজিটিভ পাওয়ার পর আমরা সতর্ক অবস্থায় আছি। প্রতিটি মোড়ে গ্রাম পুলিশ দিয়ে পাহারা বসানো হয়েছে। এ ছাড়া বাঁশ দিয়ে ওই এলাকার প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।