নাসিরনগরে ২ গ্রামবাসীর সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ উভয়পক্ষের ৬৫ জন আহত হয়েছেন। গত রোববার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের দুই গ্রামের লোকদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরবর্তীতে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানায়, গত রোববার বিকাল থেকে ডিঘর ও সূচীউড়ার তিতাস নদীর পাড়ে ডিঘর গ্রামের ফারুক মিয়া ধান মাড়াই করছিলেন। সন্ধ্যার সময় সূচিউড়া গ্রামের কামাল মিয়া নামে এক ব্যক্তি ধান মাড়াইয়ের উপর একটি ছোট ট্রাক উঠিয়ে দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। পরে দুপক্ষের লোকজন উভয়পক্ষ দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। মুহূর্তের মধ্যে দুটি গ্রামের পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সংঘর্ষ থামাতে চেষ্টা করলে দাঙ্গাবাজরা পুলিশের উপরও চড়াও হয়। এ সময় থানা পুলিশের ওসি তদন্ত কবির হোসেন, এসআই তাহের, এসআই নুরুল ইসলাম, কন্সটেবল তসলিম, শফিক, তাহের আহত হয়। এছাড়া দুই ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশত লোক আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৯ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। 

গোকর্ণ ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান সোয়াব আহমেদ রিতুল বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ সংর্ঘষ হয়। উভয়পক্ষের আহতদের হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের লোকজনকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি। তবে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন আছে।

নাসিরনগর থানা ওসি তদন্ত কবির হোসেন সোমবার বিকেলে দেশ রূপান্তরকে জানান, করোনার ভয়ে মানুষ যখন ঘরে তখন নাসিরনগরে এ ঘটনায় আমরা বিব্রত। রোববার রাতে সাধারণ একটি বিষয় নিয়ে উভয়পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ররেছে। এখনো মামলা হয়নি। আমরা দাঙ্গাবাজদের গ্রেপ্তারেও চেষ্টা চালাচ্ছি।