ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবার ধান মাড়াই নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৬৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ধান মাড়াইয়ের স্থানে ট্রাক উঠে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এতে ৫ পুলিশ সদস্যসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৬৫ জন আহত হয়েছে। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৯ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে পুলিশ। গত রাতে উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের ডিঘর ও সূচিউড়া গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। গতকাল সোমবারও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া লকডাউনের পরের দিন ১২ এপ্রিল নবীনগরের থানাকান্দি গ্রামের দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রায় ৫০ জন আহত হয়। ওই দিন সংঘর্ষ চলাকালে একজনের পা কেটে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে তা নিয়ে মিছিলসহ উল্লাস করে প্রতিপক্ষরা। ওই ঘটনার ৮ দিন পর এবার নাসিরনগরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানায়, গত রবিবার বিকেল থেকে উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের ডিঘর গ্রামে তিতাস নদীর পাড়ে ফারুক মিয়া নামে এক কৃষক ধান মাড়াই করছিলেন। সন্ধ্যার দিকে সূচিউড়া গ্রামের কামাল মিয়া নামে এক ব্যক্তি ধানমাড়াইয়ের ওপর একটি ছোট ট্রাক উঠিয়ে দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে দুপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। মুহূর্তের মধ্যে দুটি গ্রামের পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংঘর্ষ থামাতে চেষ্টা করলে পুলিশের ওপর হামলা চালায় তারা। এতে ওসি (তদন্ত) কবির হোসেন, এসআই তাহের, এসআই নুরুল ইসলাম, কনস্টেবল তসলিম, শফিক ও তাহের আহত হন। এ ছাড়া দুই ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশত লোক আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৯ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

 গোকর্ণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোয়াব আহমেদ রিতুল বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়। উভয় পক্ষের আহতদের হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের লোকজনকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ মোতায়েন আছে।

নাসিরনগর থানার ওসি কবির হোসেন গতকাল বিকেলে জানান, করোনার ভয়ে মানুষ যখন ঘরে, তখন নাসিরনগরে এ ঝগড়ার ঘটনায় আমরা বিব্রত। রবিবার রাতে সাধারণ একটি বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষে সংঘর্ষ হয়। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এখনো মামলা হয়নি। আমরা দাঙ্গাবাজদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছি।