মাস্ক নিয়ে বানোয়াট তথ্য প্রচার করলে ব্যবস্থা : সিএমএসডি

করোনা চিকিৎসায় জড়িত চিকিৎসাকর্মীদের ব্যবহার্য এন-৯৫ মাস্ক নিয়ে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে বানোয়াট তথ্য প্রচার হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি)। গতকাল সোমবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে যুক্ত হয়ে সিএমএসডির পরিচালক (ভান্ডার ও সরবরাহ) ব্রি. জে. মোহাম্মদ শহীদউল্লাহ এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করে বলেন, কেন্দ্রীয় ঔষধাগার এ পর্যন্ত যত সামগ্রী সরবরাহ করেছে, মান যাচাই করেই সেগুলো সরবরাহ করেছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে দেশে তৈরি একটি সাধারণ মাস্ক নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নিয়ে বানোয়াট ও অসত্য তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। মাস্কসহ পিপিই সামগ্রীর ব্যাপারে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য পরিবেশন থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি সবাইকে অনুরোধ জানান। না হলে তথ্য অধিকার আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন।

স্বাস্থ্যকর্মীদের এন-৯৫ মাস্কের মোড়কে সাধারণ মাস্ক দেওয়া নিয়ে আলোচনার মধ্যে গতকাল সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারকে মাস্ক সরবরাহের বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার পরই দুপুরে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পক্ষ থেকে এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়।

ব্রিগেডিয়ার শহীদউল্লাহ জানান, বিশ্বজুড়েই এন-৯৫ মাস্কের অপ্রতুলতা রয়েছে। দেশে বর্তমানে প্রায় লক্ষাধিক এন-৯৫ সমমানের মাস্ক মজুদ আছে। এগুলো নমুনা পরীক্ষার ল্যাবসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হচ্ছে। যথাযথ কমিটি দ্বারা অনুমোদনের মাধ্যমে এসব মাস্ক ক্রয় করা হয়ে থাকে। তাই এগুলো নিয়ে কোনো সন্দেহের সুযোগ নেই। তিনি জানান, সিএমএসডি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্র্তৃক নির্ধারিত মূল্যে সব সামগ্রী ক্রয় করে থাকে এবং এর ব্যত্যয় হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। সরবরাহকারী কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কখনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং মাস্ক ফেরত দেওয়া হয়।

তিনি জানান, সিএমএসডি তার কারিগরি কমিটি দ্বারা পরীক্ষাকৃত পিপিই ও অন্যান্য উপকরণ নিয়মিতভাবে দেশজুড়ে বিতরণ করে যাচ্ছে। বিতরণকৃত পিপিইর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নীতিমালা মেনে দেশি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান দ্বারা প্রস্তুতকৃত। বাকি ৩০ শতাংশ আমদানি নীতিমালা অনুসরণ করে চীন থেকে আমাদানি করা। এসব পিপিই দেশের সব পর্যায়ে কভিড-১৯ চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতাল, নমুনা পরীক্ষার ল্যাব ও মাঠপর্যায়ে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। তবে বিভিন্ন হাসপাতালে অনুদান হিসেবে প্রাপ্ত পিপিইসামগ্রী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রণীত মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে জানান তিনি।