করোনার প্রভাবে দেশজুড়ে শ্রমিক সংকটে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় কৃষকদের ধান কেটে দিচ্ছে গ্রামের স্বেচ্ছাসেবকরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে উপজেলার চন্ডিগড় গ্রামে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে জমির পাকা ধান কাটতে মাঠে নামেন তারা। স্থানীয় ২০ স্বেচ্ছাসেবকের একটি দল অসহায় কৃষক হাফিজ উদ্দিনের ১০ কাটা (৮০ শতাংশ) জমির পাকা ধান বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
পর্যায়ক্রমে গ্রামের অন্যান্য অসহায় কৃষকের ধান কেটে দেওয়া হবে বলেও তারা জানান। এভাবে ধান কাটতে স্থানীয় তরুণরা এগিয়ে আসায় খুশি কৃষক। তারা মনে করেন কিছুটা হলেও ধান ঘরে তুলতে পারলে খেয়ে বাঁচবে কৃষকরা।
জমিতে পাকা ধান থাকলেও শ্রমিক সংকটে ঘরে ধান তুলতে না পারায় কৃষকদের এমন দুর্দিনে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে চন্ডিগড় গ্রামে সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রায় ২০ জনের একটি স্বেচ্ছাসেবক দল এ কাজে এগিয়ে আসে।
অপরদিকে, হাওরে ধান কাটতে মাঠে নেমেছে কিশোর-তরুণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গড়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শিশু ছায়ার মোহনগঞ্জ টিমের সদস্যরা। তাদের এ কার্যক্রমে উৎসাহ ও সার্বিক সহযোগিতা দেয় মোহনগঞ্জ থানার পুলিশ। মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. আবদুল আহাদ খান তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের কৃষকের ধান কেটে দিয়ে সহযোগিতার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করেন ও যাতায়াতের জন্য তাদের পরিবহনের ব্যবস্থা করে দেন।
মঙ্গলবার শিশু ছায়ার ১৫ জন, সূর্যমুখী থিয়েটারের বেশ কয়েকজন ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী মিলে মোট ২৭ জনের এ দলটি ধান কাটতে মাঠে নামে।
শিশু ছায়ার সদস্যরা হাওরে তেঁতুলিয়া গ্রামের জাকির হোসেন নামে এক কৃষকের পাঁচ কাটা জমির ধান কাটে। পরে সেগুলো বয়ে এনে উঁচু জায়গায় জমা করে দেয়।