হটলাইনে ৪৭৩ বার মিথ্যা ফোন স্কুলছাত্র গ্রেপ্তার

সরকারি বিভিন্ন পরিসেবার নম্বরে বারবার ফোন করে বলা হয়, ‘আমি করোনায় আক্রান্ত, আমি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পালিয়ে এসেছি, আমাকে বাঁচান।’ বিভিন্ন জরুরি সেবার টোল ফ্রি হটলাইন নাম্বারে মোট ৪৭৩ বার ফোন করে এই কথা বলা হয়। বাধ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত নাটোর শহরের আলাইপুর এলাকার আবদুল করিম পরিচয়দানকারী ওই ব্যক্তিকে খুঁজতে মাঠে নামে পুলিশ। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে তাকে  খুঁজেও পেয়েছে নাটোর পুলিশের একটি দল। গত সোমবার রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের টলটলিয়াপাড়া থেকে মোবাইলসহ সেই ফোনকারীকে আটক করা হয়। সে আসলে ১৩-১৪ বছর বয়সের এক কিশোর। স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পুলিশ জানায়, আটক ওই কিশোর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন হটলাইনে কল দিয়ে তার নাম বলে আবদুল করিম। শহরের আলাইপুর এলাকায় তার বাড়ি। করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা থেকে পালিয়ে এসেছে। বর্তমানে শ্বাসকষ্টে ভুগছে, তার জরুরি চিকিৎসা দরকার। গতকাল মঙ্গলবার নাটোর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে জানানো হয়, আটক ওই কিশোরের করা ফোন কলগুলো ছিল প্রতারণা বা হয়রানিমূলক। সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্র মজা করার জন্যই সরকারের বিভিন্ন পরিসেবার নম্বরে ফোন করে।

ওই কিশোরকে আটকের অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া নাটোর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আটক ছেলেটির মোবাইল সিডিআর পর্যালোচনায় দেখা যায় ৬ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সে সরকারি টোল ফ্রি ৩৩৩ নম্বরে ৩১৬ বার, ১৬২৬৩ নম্বরে ৬৩ বার, ১০৬৫৫ নম্বরে ৪০ বার, ১০৯ নম্বরে ৩১ বার এবং ৯৯৯-এ ২৩ বার কল করে বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রদান করেছে। এমন কাজের ফলে সরকারি সম্পদ ও সময় যেমন অপচয় হয়েছে, তেমনি ভুক্তভোগী জনগণ সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সেবা হতে বঞ্চিত হয়েছেন। পাশাপাশি মিথ্যা তথ্য প্রদান করায় মাঠ পর্যায়ে কর্মরত পুলিশ প্রশাসনসহ দায়িত্বরত অন্যান্য সংস্থা হয়রানির শিকার হয়েছে। আটক কিশোরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।’