কাঁচামালে অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার চায় সিমেন্ট খাত

করোনাভাইরাস মহামারীতে সংকটে সিমেন্ট শিল্প। লকডাউন শুরুর পর সিমেন্ট কারখানাগুলোতে ৯০ শতাংশ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আয় না থাকলেও শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য নিয়মিত খরচ বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। অন্যদিকে চμবৃদ্ধি হারে বেড়ে চলেছে ব্যাংকঋণের সুদ। এমন চলতে থাকলে অনেক কারখানার অস্তিত্ব আগামীতে হুমকিতে পড়বে। এ অবস্থায় শিল্পটি বাঁচাতে সরকারের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমএ)।

গতকাল বিসিএমএ সভাপতি এবং এমআই সিমেন্ট ফ্যাক্টরির (ক্রাউন সিমেন্ট) ভাইস চেয়ারম্যান আলমগীর কবির বিবৃতিতে এই শিল্পের সব কাঁচামালের আমদানি শুল্ক ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল এবং অন্যান্য কর জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পর্যায়μমে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, এই শিল্পে দেশের বেশিরভাগ ব্যাংকের কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ বা ঋণ রয়েছে। এছাড়া সরকার এই খাত থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেয়ে থাকে। খাতটি বেঁচে না থাকলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিবৃতিতে বিসিএমএ প্রেসিডেন্ট বলেন, করোনাভাইরাস সংকটে লকডাউন শুরু থেকে সিমেন্ট কারখানাগুলোতে ৯০ শতাংশ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। অথচ পরিচালন খরচ কমেনি। সিমেন্টের কাঁচামাল শতভাগ আমদানিনির্ভর। এ পর্যন্ত খোলা এলসিগুলো এখন আমাদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে ব্যাংক থেকে নেওয়া চলতি মূলধন এবং প্রকল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতির জন্য নেওয়া ঋণের পরিমাণ সুদে-আসলে বাড়ছে। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও অবচয় হিসাব বন্ধ থাকছে না।

অন্যদিকে কাঁচামাল বহনকারী জাহাজ একটি নির্ধারিত সময়ে খালি বা আনলোড করতে হবে। নইলে উচ্চহারে বিলম্বজনিত জরিমানা দিতে হবে। সমুদ্রগামী জাহাজের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নৌ আইন অনুযায়ী বিলম্বজনিত মোটা অঙ্কের মাশুল দিতে হবে। আর তা দিতে হবে বৈদেশিক মুদ্রায়। এখন এগুলো ঝুলে থাকার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে, যা কারও সমাধান জানা নেই এবং কিছুই করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, এ বছর জিডিপি ও রাজস্ব আহরণ কমার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কারণ, উৎপাদন ও আমদানি পর্যায়ে রাজস্বে প্রভাব পড়ছে। তাছাড়া করোনায় রেমিট্যান্স প্রবাহেও ভাটা পড়বে। আর পোশাক খাতে রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার বড় অংশ কমে যেতে পারে। তাতে সরকারি- বেসরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি কমবে। এতে কমবে নির্মাণের অন্যতম উপাদান সিমেন্টের ব্যবহার। এ কারণে উৎপাদনও কমে যাবে। এমন অবস্থায় সিমেন্ট শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে আর্থিক ও নীতি সহায়তা জরুরি।