চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শারমিন আক্তার কাকলি নামের নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর গলাকাটা গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার বেলা ১১টায় উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামের স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের রুম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। শারমিন প্রায় এক মাস ধরে নিখোঁজ ছিল। নিখোঁজ হওয়ার পরে তার মা গত ২৯ মার্চ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছিলেন।
কাকলি ইসলামাবাদের সপ্তমগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের নমব শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সে ইসলামাবাদ গ্রামের ভজন মিস্ত্রির মেয়ে। তার মায়ের নাম রোকেয়া বেগম।
মতলব উত্তর থানা পুলিশ জানায়, বুধবার সকাল গ্রামের শিশুরা ১১ টার দিকে ইসলামাবাদের সপ্তমগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন অক্সফোর্ড কিন্ডারগার্টেনের মাঠে খেলা করছিল। তাদের খেলার বলটি কিন্ডারগার্টেনের একটি কক্ষে গেলে বল কুড়াতে গিয়ে শিশুরা একটি গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করে। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে মতলব উত্তর থানার ওসি নাসির উদ্দিন মৃধা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করেন। স্থানীয়রা মরদেহটি শারমিন আক্তারের বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশকে।
মতলব উত্তর থানার ওসি নাসির উদ্দিন মৃধা বলেন, ‘ শারমিনকে জবাই করে হত্যার পর তার মাথাবিহীন মরদেহটি স্কুলে রেখে গেছে। আমরা তার গলিত মরদেহ উদ্ধার করতে পারলেও এখনো তার মাথা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। স্কুল ছাত্রীর মাথা উদ্ধার করার জন্য পুলিশের তিনটি টিম ইতমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে অন্তত ২০দিন আগে তাকে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়েছিল। যেহেতেু সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল, তাই ওই কক্ষে কেউ না যাওয়ায় এতো দিন অতিবাহিত হয়েছে। গত ২৮ মার্চ শারমিন নিখোঁজ হলে ২৯ মার্চ তার মা রোকেয়া বেগম থানায় নিখোঁজের জিডি করেন। এ ব্যাপারে হত্যা মামলা দায়ের করার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
শারমিনের মা রোকেয়া বেগম বলেন, ‘গত ২৮ মার্চ সকালে আমার মেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপরে আর তার খোঁজ পাইনি। এ ব্যাপারে আমি ২৯ মার্চ থানায় জিডি করি। তার লাশ পাওয়ার পর পরনের পোশাক দেখে আমি নিশ্চিত হই এটা আমার মেয়ে।’