আমদানি রপ্তানি নিরবচ্ছিন্ন রাখা

কাস্টম হাউজে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ

কন্টেইনার ও জাহাজ জটে প্রায় অচল হয়ে পড়া চট্টগ্রাম বন্দর পরিস্থিতি পরিদর্শনে আসছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের সচিব। বৃহস্পতিবার সকালে তারা বন্দর ভবন যাবেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এদিকে করোনা পরিস্থিতির কারণে ইতিপূর্বে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে কাস্টম হাউজের কার্যক্রম সীমিত আকারে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হলেও গতকাল বুধবার থেকে দেশের সব কাস্টম হাউজ ও কাস্টমস স্টেশনগুলোতে স্বাভাবিক দাপ্তরিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এ নির্দেশনা বন্দরে সৃষ্ট কন্টেইনার জট নিরসনে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন স্টেক হোল্ডাররা।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে জানান, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বৃহস্পতিবার সকালে বন্দর আসবেন। তারা বন্দর পরিদর্শন করবেন এবং বেলা ১১টায় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন।

আমদানিকারকরা জানান, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সাধারণ ছুটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও কাস্টম হাউজ ও কাস্টমস স্টেশনগুলোতে সীমিত আকারে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেয়। ২৪ মার্চ এনবিআর থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে বলা হয়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিকালীন আমদানিকৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জরুরি চিকিৎসা ও অন্যান্য সেবাসামগ্রী শুল্কায়নসহ খালাস প্রদান এবং রপ্তানি ও ইপিজেডের কার্যক্রম সচল রাখার লক্ষ্যে সীমিত আকারে দাপ্তরিক কার্যক্রমসমূহ পরিচালনা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। আমদানিকারকরা জানান, এনবিআর এর পর ওই অফিস আদেশের কারণে শিল্পকারখানার কাঁচামাল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আমদানিকৃত পণ্যসমূহের শুল্কায়ন ও খালাস কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। এর ফলে প্রচুর আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার বন্দরে আটকা পড়ে। ৩০ মার্চ অপর এক অফিস আদেশে এনবিআর শিল্পের কাঁচামাল এবং সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার আমদানিও খালাসের নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও ডেলিভারির গতি খুব একটা বাড়েনি। বরং বন্দরে নজিরবিহীন কন্টেইনার জটের সৃষ্টি হয়। আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার বন্দরের ধারণ ক্ষমতা ছাড়িয়ে যায়। কন্টেইনার জটের কারণে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমও প্রায় অচল হয়ে পড়ে। জাহাজ থেকে ঠিকভাবে কন্টেইনার নামানোর কাজও ব্যাহত হয়। বহির্নোঙ্গরে সৃষ্টি হয় জাহাজ জট।

এ অবস্থায় গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে স্বাভাবিক দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কাস্টম হাউজকে নির্দেশ দেওয়া হয়। বোর্ডের দ্বিতীয় সচিব (রাজস্ব নীতি) মোহাম্মদ মেহরাজ উল আলম সম্রাট স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়, দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়।

কাস্টম হাউজে স্বাভাবিক দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে এনবিআরের এ নির্দেশনার ফলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানি পণ্য ডেলিভারিতে গতি আসবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম। এ প্রসঙ্গে দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রথম দিকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতেই এনবিআর সীমিত আকারে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দিয়েছিল। আশা করি চট্টগ্রাম বন্দরের এ সংকটময় মুহূর্তে এনবিআরের নতুন নির্দেশনার ফলে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক পণ্য আমদানিকারকগণ তাদের আমদানিকৃত পণ্য দ্রুত ডেলিভারি নিয়ে যাবেন। এতে বন্দরে যে কন্টেইনার জট সৃষ্টি হয়েছে, তা কিছুটা হলেও কমে আসবে।