করোনা পরিস্থিতিতে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন রাজধানীর প্রায় ১২ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী। তাদের মধ্যে প্রায় আট হাজার নিয়মিত ও চার হাজার অনিয়মিত কর্মী রয়েছেন। কোনো ধরনের মাস্ক, গ্লাভস ও ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়াই তারা বাসাবাড়ি থেকে ময়লা অপসারণের কাজ করছেন। ইতিমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) অনুমোদিত ময়লা অপসারণ কাজে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভ্যানশ্রমিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বেশ কয়েকজনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অভিযোগ, চাহিদা দিলেও ঠিকাদাররা কোনো সুরক্ষাসামগ্রী দেননি। অবশ্য কর্মকর্তারা বলছেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সুরক্ষাসামগ্রী দিতে ঠিকাদারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেউ না দিলে অনুমোদন বাতিল করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা দক্ষিণে ৫ হাজার ২৪০ ও উত্তরে ২ হাজার ৭০০ জন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন। এর বাইরে দুই সিটিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অধীনে প্রায় চার হাজার অনিয়মিত কর্মী কাজ করছেন। বাসাবাড়ির ময়লা অপসারণে বিভিন্ন সামাজিক, বেসরকারি সংগঠন ও ব্যক্তি পর্যায়ের ঠিকাদারদের অনুমোদন রয়েছে। তারা ময়লা অপসারণের জন্য প্রতিটি ফ্ল্যাট থেকে মাসে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করে। এজন্য নিজস্ব কর্মী নিয়োগ দেয়। কিন্তু করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনা করে ঠিকাদাররা কর্মীদের সুরক্ষা দিচ্ছেন না। ফলে কর্মীরা খালি হাতে ময়লা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এক বাসার ময়লা রাখার ঝুড়ি ও বালতির ছাপ পড়ছে আরেক বাসায়। এতে বাসিন্দাদের মধ্যে সংক্রমণ ঝুঁকি বাড়ছে।
রাজধানীর কলাবাগান বশীর উদ্দিন রোড এলাকায় ময়লা অপসারণকারী ভ্যানের চালক আবদুল হকের ব্যক্তিগত সুরক্ষা বলতে মুখে কাপড়ের মাস্ক। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ ছাড়া আমাদের রক্ষার কেউ নেই। একটি মাস্ক ১০-৩০ ও গ্লাভস কিনতে ১০ টাকা লাগে। প্রত্যেক দিন এ বাড়তি টাকা কোথায় পাব? মালিককে বলেছি, কিন্তু তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি।’ নয়াপল্টন এলাকার বাবু বলেন, ‘আমার কোনো নিরাপত্তা নেই। আমার মাধ্যমে অন্যরা আক্রান্ত হতে পারে, সেটি কেউ বুঝতে চায় না। কিছুদিন আগে এক জোড়া হাতমোজা দেওয়া হয়, চার দিনেই নষ্ট হয়ে গেছে। এখন খালি হাতেই সব কাজ করছি।’
বশীর উদ্দিন রোড এলাকার ঠিকাদার মুকুল মিয়া বলেন, ‘আমার অধীনে দুটি ভ্যানে চারজন কর্মী কাজ করে। তাদের সিটি করপোরেশন থেকে দুই জোড়া করে হাতমোজা ও এক জোড়া করে মাস্ক দেওয়া হয়েছে। আমি নিজেও এক জোড়া করে মাস্ক ও গ্লাভস কিনে দিয়েছি।’
নাম প্রকাশে নয়াপল্টন কল্যাণ সমিতির অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ময়লার ভ্যানচালক ও কর্মীদের কিছু সুরক্ষাসামগ্রী তারা দিয়েছেন। কর্মীরা সেগুলো পরছে কি না তা তদারকি করা হচ্ছে।
তবে কলাবাগান লাল ফকিরের গলির ঠিকাদার মাইনু, প্রথম ও দ্বিতীয় লেনের ঠিকাদার শিরিন জাহান, রূপসা কমিউনিটি সেন্টার গলির ঠিকাদার নজরুল, ঢালী বাড়ি এলাকার ঠিকাদার নজরুল ভ্যান সার্ভিসের মালিক নজরুলসহ অনেকেই তাদের কর্মীদের কোনো সুরক্ষাসামগ্রী দেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর মোহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন বলেন, ‘যারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ময়লা নেন, তাদের সুরক্ষাসামগ্রী দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের। তারা সিটি করপোরেশনের কর্মী নন। বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব কর্মীর জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ দরকার।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব কর্মী না হওয়া সত্ত্বেও দুই হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংক্রমণ ঠেকাতে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের রাস্তায় জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখার কাজ চলছে।’