দেশে বর্তমানে ১৭ লাখ টন খাদ্য মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ইতিমধ্যে ১ লাখ টন খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে এবং আরও ৬ লাখ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মানুষের জীবন ও জীবিকা দুটো রক্ষা করতেই সরকার কাজ করছে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আজকের (গতকাল) সমন্বয় সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠকে উঠে এসেছে চট্টগ্রাম জেলায় এখন পর্যন্ত করোনা পরিস্থিতি ঢাকা অঞ্চলের চেয়ে অনেক ভালো। যারা ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে তাদের আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া যায়, ভবিষ্যতে আরও রোগী বাড়লে কীভাবে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হবে, এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
‘ভিআইপিদের চিকিৎসার জন্য সরকার আলাদা ব্যবস্থা করেছে’ এ ধরনের একটা সংবাদ প্রকাশ হয়েছে বিভিন্ন অনলাইনে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সরকারের এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেই এবং ছিল না। এ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আজকে পরিষ্কার করেছেন। আমি জানি, দুয়েকটি অনলাইনে এ ধরনের সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে। এটিকে ভালো মতো যাচাই-বাছাই না করে তারা সংবাদ পরিবেশনে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে।’
এ সময় তথ্যমন্ত্রী দেশের এই দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ এবং সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে যত্নশীল হওয়ারও আহ্বান জানান।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, একটি মাস দেশের সব কর্মকান্ড বন্ধ। বাংলাদেশে একটি মানুষও না খেয়ে মৃত্যুবরণ করেনি। এটিই হচ্ছে সরকারের সফলতা। সরকারি সাহায্যের বাইরে আমাদের সংসদ সদস্য, অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এবং অবস্থাসম্পন্ন বিত্তশালীরা সহায়তা দিচ্ছেন। সুতরাং সবকিছু সমন্বয় করার জন্যই আজকের এই বৈঠক। মানুষের জীবন যেমন রক্ষা করতে হবে, তেমনি মানুষের জীবিকাও রক্ষা করতে হবে। সুতরাং মানুষের জীবন ও জীবিকা দুটো রক্ষা করতেই সরকার কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। যে কারণে আমাদের দেশে করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি আল্লাহর রহমতে এখনো অনেক উন্নত দেশের তুলনায় কিছুটা ভালো অবস্থায় আছে।
তথ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সমন্বয় সভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। সাবেক মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী এমপি, এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি, মোসলেম উদ্দিন আহমেদ এমপি, নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী এমপি, মোস্তাফিজুর রহমান এমপি, আবু রেজা নদভী এমপি, ওয়াসিকা আয়েশা খানম এমপি, খাদিজাতুল আনোয়ার সনি এমপি, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদ, জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির, সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি প্রমুখ।