জট কমাতে নতুন পদক্ষেপ

পণ্যবাহী কন্টেইনার অফডকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ

সব ধরনের আমদানি পণ্যবাহী কন্টেইনার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১৯টি বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোতে (অফডক) সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। বৃহস্পতিবার বিকেলে জারি করা হয়েছে এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ। চট্টগ্রাম বন্দরে সৃষ্ট ভয়াবহ কন্টেইনার জট নিরসনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে তিন শর্তে অফডকসমূহে এসব কন্টেইনার সরিয়ে নেওয়া এবং তা খালাস প্রদানের অনুমতি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বন্দর সচল রাখতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যেকোনো উপায়ে তা পুরোদমে সচল রাখতে হবে।

স্বাভাবিক সময়ে অফডকগুলোতে ৩৮ ধরনের আমদানি পণ্য সরাসরি হুক পয়েন্ট থেকে অথবা বন্দর ইয়ার্ড থেকে অফডকগুলোতে নিয়ে যাওয়া হয়। আমদানিকারকরা সেখান থেকে এসব পণ্য খালাস করে থাকেন। অন্যান্য আমদানি পণ্যের কন্টেইনারগুলো বন্দর ইয়ার্ড থেকেই ডেলিভারি নেন আমদানিকারকরা। করোনা পরিস্থিতিতে কন্টেইনার ডেলিভারি কমে যাওয়ার কারণে বন্দরে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ কন্টেইনার জট। বন্দরের ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যায় আমদানি পণ্যের কন্টেইনার। প্রায় ৫০ হাজার টিইইউস কন্টেইনার এখন জমে আছে সেখানে। যে কারণে জাহাজ থেকে আমদানি পণ্যের কন্টেইনার বন্দরে নামানো কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে বন্দরে দেখা দেয় জাহাজজট।

বন্দরসংশ্লিষ্টরা জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ১৮ এপ্রিল নির্ধারিত ৩৮ ধরনের পণ্যের অতিরিক্ত আরও ৬ ধরনের আমদানি পণ্যের কন্টেইনার অফডকে আনস্টাফিং, সংরক্ষণ এবং সেখান থেকে খালাস প্রদানের অনুমতি দিয়ে দাপ্তরিক আদেশ জারি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। কিন্তু তাতেও জট পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় সব ধরনের আমদানি পণ্যের কন্টেইনার বন্দর থেকে অফডকে সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি প্রদানের অনুরোধ জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে ২০ এপ্রিল চিঠি পাঠায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সব ধরনের আমদানি পণ্য অফডকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আদেশ জারি করে এনবিআর।

কাস্টমস সূত্র জানায়, কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরে সৃষ্ট কন্টেইনার জট নিরসনে চট্টগ্রামে অবস্থিত অফডক থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত শর্ত সাপেক্ষে সব ধরনের আমদানি পণ্যের কন্টেইনার সাময়িকভাবে আনস্টাফিং, সংরক্ষণ ও অফডক থেকে তা খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে এনবিআরের দেওয়া শর্তের মধ্যে রয়েছে অফডকে স্থানান্তরের সময় শতভাগ কন্টেইনার স্ক্যানিং করা, স্ক্যানিং রিপোর্ট যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা, অফডকে স্থানান্তরিত সব কমার্শিয়াল পণ্য চালান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রতিনিধির সমন্বয়ে যৌথভাবে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

বেসরকারি আইসিডিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশন-বিকডার সচিব রুহুল আমিন সিকদার বিপ্লব দেশ রূপান্তরকে জানান, চট্টগ্রামের ১৯টি অফডকে মোট ৭৭ হাজার ৪০০ টিইইউস কন্টেইনার রাখার ধারণক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে এসব ডিপোতে ৪৬ হাজার কন্টেইনার আছে। এ অবস্থায় বন্দর থেকে অন্তত ২৫ হাজার টিইইউস কন্টেইনার সেখানে নেওয়া যাবে।