এ প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী পারসা ইভানা। ঘরবন্দি দিনে দর্শকের সামনে নতুন পরিচয়ে হাজির হয়ে প্রশংসিত হয়েছেন। সমসাময়িক বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ
নতুন পরিচয়ে...
নাচ করছি ছোটবেলা থেকে। দেশ-বিদেশের অসংখ্য মঞ্চে নেচেছি। ‘সেরা নাচিয়ে’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়নও হয়েছি। কিন্তু এতদিন যে নাচ করেছি তা কোরিওগ্রাফি করতেন আমার শিক্ষক বা অন্যরা। আমি কোরিওগ্রাফি করতে পারব তা কোনোদিন ভাবতেই পারিনি। কিন্তু লকডাউনের দিনগুলোতে যখন হাতে অনেক সময় পেয়েছি, তাই নতুন কী করা যায় এ নিয়ে ভাবছিলাম। একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই চিরকুট ব্যান্ডের ‘এ শহর জাদুর শহর’ গানটি শুনছিলাম। ঠিক তখনই মনে হলো, এ গানটি দিয়েই শুরু করব। আমি যে নাচটি কভার করেছি তা কিন্তু চিরকুট ব্যান্ডের মূল গান নয়। গান বাংলা চ্যানেলে তারা নতুন একটি ভার্সন করেছিল। এতে শুরুর দিকে কিছু ডায়ালগ ছিল। অনুমতি নিয়েই ওই ভার্সনটি কভার করেছি। কাজটিতে কাকে সঙ্গে নেব তা চূড়ান্ত করতেই ফেইসবুক গ্রুপ খুলি। যাদেরকে প্রস্তাব দিয়েছি সবাই একবাক্যে রাজি হয়েছেন। আমার সঙ্গে আরও নেচেছেন মিম চৌধুরী, ইভান, নাঈম, মন্দিরা ও রাসেল। তারা সবাই সেরা নাচিয়ে প্রতিযোগিতার সেরা ৫ নৃত্যশিল্পী। শুধু হৃদি শেখ আরেকটি নাচের ব্যস্ততার কারণে করতে পারেনি। মাত্র দুই দিনের মধ্যেই আমরা কাজটি করেছি। এডিটিং করেছেন রুদ্র তাহসিন। তাকে দুপুর ১২টায় ভিডিও কল করি, আর কাজ শেষ করে রাত ১২টায় কল কাটি।
প্রথম কোরিওগ্রাফিতে প্রশংসিত...
নাচটি প্রকাশের পর সবার এত প্রশংসা পাচ্ছি যে কোরিওগ্রাফি করার ব্যাপারে ভীষণ অনুপ্রাণিত হয়েছি। আমার নাচের শিক্ষক অমিত চৌধুরী, তার স্ত্রী নৃত্যশিল্পী সুইটি দাস, শ্রদ্ধেয় লুবনা মরিয়ম, ওয়ার্দা রিহাবসহ অনেকে প্রশংসা করেছেন। শুধু নির্মাতারা ভিডিওগ্রাফি নিয়ে অল্প বিস্তর সমালোচনা করেছেন। ভবিষ্যতে তা ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করছি।
অভিনয় ক্যারিয়ার...
সর্বশেষ ঈদের জন্য ‘৫ টন’ নামের একটি ভিন্নধর্মী গল্পের কাজ করে ঘরবন্দি হয়েছি। ইমরাউল রাফাতের পরিচালনায় এ নাটকে আমার সহশিল্পী সালাহউদ্দিন লাভলু। মাবরুর রশীদ বান্নাহসহ আরও চারজন পরিচালকের সঙ্গে কাজের কথা চূড়ান্ত হয়েছিল। জানি না কাজগুলো কবে করতে পারব। এছাড়া এনটিভির ঈদের নাচের অনুষ্ঠানের মহড়াও শুরু করেছিলাম। তবে ঘরে থেকেই সম্প্রতি ইভান শাহরিয়ার সোহাগের ২০ তারকার নৃত্যযোগে অংশ নিয়েছি।
কঙ্গনার কাছ থেকে অভিনয় শিক্ষা...
হাতে প্রচুর সময় থাকায় নতুন আইটেম রান্না করছি। সেদিন ভারতের জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড পানিপুরি তৈরি করি। প্রথমবারই সবাই বেশ ভালো বলেছে। সম্প্রতি ‘মিরাকেল ইন সেল নম্বর সেভেন’ নামের একটি টার্কিশ সিনেমা দেখলাম। সিনেমাটি এতই ভালো লাগে যে পরদিন এর কোরিয়ান ভার্সনটিও দেখেছি। আমি এর আগে কোনোদিন কোনো সিনেমা দেখে হাউমাউ করে কাঁদিনি। বাবা আর মেয়ের গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমাটি। আর বলিউডের কঙ্গনা রানৌতকে আমি অভিনয়ের ইনস্টিটিউট মনে করি। তার সিনেমা দেখে অভিনয় শেখা যায়। সম্প্রতি তার ‘পাঙ্গা’ দেখে আমি বাকরুদ্ধ। একজন শিল্পী কত ধরনের চরিত্রে অনবদ্য হয়ে উঠতে পারেন, তা তাকে না দেখলে বুঝতাম না।