দাঁতের সুস্থতার জন্য স্কেলিং করা জরুরি। দাঁতে জমে থাকা পাথর (calculus) এবং ভারী দাগ (heavy stain) অপসারণ করাই মূলত স্কেলিং-এর উদ্দেশ্য। তবে স্কেলিং করানোর আগে কিছু বিষয় মনে রাখতে হবে। যেমন, মানুষের অনেক ধরনের শারীরিক অসুস্থতা থাকে যেগুলো থাকলে স্কেলিং করা যায় না, অথবা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। সেগুলো জানা না থাকলে চিকিৎসক এবং রোগী উভয়েরই ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। তাই শুধু স্কেলিং নয়, যে কোনো চিকিৎসা গ্রহণের পূর্বে নিম্নোক্ত ব্যাপারগুলো সম্পর্কে আপনার চিকিৎসককে অবশ্যই অবহিত করুন।
১. উচ্চ রক্তচাপ
২. ডায়াবেটিস
৩. জন্ডিস
৪. হেপাটাইটিস
৫. এইডস
৬. থ্যালাসেমিয়া
৭. হেমোফিলিয়া
৮. বর্তমানে গর্ভবতী কি না
৯. বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন কি না
১০. গর্ভধারণের চেষ্টা করছেন কি না
১১. কোথাও কেটে গেলে রক্তপাত বন্ধ হতে স্বাভাবিকের চেয়ে দীর্ঘ সময় লাগে কি না
১২. বর্তমানে নিয়মিত কোনো ওষুধ ব্যবহার করছেন কি না
১৩. অতীতে উল্লেখযোগ্য কোনো অসুস্থতা ছিল কি না
১৪. কোনো ধরনের সার্জারি হয়েছে কি না বা হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল কি না
১৫. অতীতে কখনো দাঁতের চিকিৎসা নিয়েছেন কি না, নিয়ে থাকলে কোনো অসুবিধা হয়েছিল কি না
১৬. শরীরে সার্বক্ষণিক কোনো যন্ত্র ব্যবহার করছেন কি না, যেমন পেস মেকার, হিয়ারিং এইড ইত্যাদি
১৭. হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট আছে কি না
১৮. কোনো ওষুধে অ্যালার্জি আছে কি না
১৯. জানা মতে যে কোনো ধরনের অসুখ-বিসুখ বা যে কোনো তথ্য যা আপনি উল্লেখযোগ্য বলে মনে করেন ইত্যাদি।
চিকিৎসা নিতে যাওয়ার সময় অতীতের মেডিকেল এবং ডেন্টাল চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ধরনের কাগজপত্র, প্রেসক্রিপশন, রিপোর্ট, এক্সরে ইত্যাদি একটা ফাইলে করে নিয়ে যান এবং বর্তমানে কী ওষুধ খাচ্ছেন তা সঙ্গে রাখুন।
অনেকেই ভাবেন দাঁতের ডাক্তার এত কথা জিজ্ঞেস করে কেন, অথবা অনেকেই অনেক তথ্য গোপন করে যান। ভাবেন দাঁতের সঙ্গে এসবের সম্পর্ক কী। কিন্তু আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না যে Oral & maxillofacial treatment, dental treatment কতখানি সেনসিটিভ। সামান্য অবহেলা বা ভুলে দাঁত তুলতে গিয়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা বাংলাদেশেই প্রচুর আছে। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে রোগীর কোনো বিপদ হলে আমরা ডাক্তারের প্রতি ক্ষুব্ধ হই, কিন্তু রোগী নিজেই তার আগের সমস্যা খুলে বলেন না। তাই নিজের সুস্থতার জন্য হলেও ডেন্টাল চিকিৎসককে সব তথ্য জানিয়ে রাখতে হবে।