৩ সন্তানসহ মা হত্যা

এলাকায় আতঙ্ক গ্রেপ্তার নেই

গাজীপুরের শ্রীপুরে মা ও তিন সন্তানকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। নিহত গৃহবধূ স্মৃতি ফাতেমার শ^শুর আবুল হোসেন বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে শ্রীপুর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। স্মৃতি ফাতেমার স্বামী গৃহকর্তা রেজোয়ান হোসেন কাজল মালয়েশিয়াপ্রবাসী। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে মাসহ তিন সন্তানকে গলা কেটে হত্যার লোমহর্ষক ঘটনায় জৈনাবাজার এলাকার আবদার গ্রামের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। কী কারণে বা কারা এই হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে, তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনা এলাকার মানুষের মাঝে।

শ্রীপুর থানার ওসি লিয়াকত আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিহত স্মৃতি ফাতেমার শ^শুর আবুল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। খুব শিগগির খুনিরা ধরা পড়বে বলে আশা করছি।’

শ্রীপুর থানার এসআই মো. এখলাস ফরাজী বলেন, ‘আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে গত বুধবার রাতের কোনো একসময় পূর্বপরিকল্পিতভাবেই গৃহকর্তা কাজলের ইন্দোনেশিয়ান বংশোদ্ভূত স্ত্রী, দুই মেয়ে ও শিশুপুত্রকে ধারালো অস্ত্রে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। চারজনের দেহেই একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে তাদের হত্যার আগে মা-মেয়েকে ধর্ষণ করার আলামত পাওয়া গেছে।’

গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিহত ব্যক্তিদের শরীর দেখে বোঝা যাচ্ছে যে হত্যার আগে মা ও মেয়েদের ধর্ষণ করা হয়েছে। এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেছে।’

অন্যদিকে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল শেখ বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ, পিবিআই ও র‌্যাব কাজ করছে। কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো উদঘাটন করা যায়নি। তবে ঘরে ডাকাতির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ঘরের আলমারিসহ অন্যান্য জিনিস সুরক্ষিত ছিল। প্রেমঘটিত নাকি অন্য কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটল, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশের একাধিক টিম।’

নিহত গৃহবধূর প্রতিবেশী সেলিম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে প্রবাসী রেজোয়ান হোসেনের পরিবারের সবার ওঠাবসা ছিল। তারা খুব আন্তরিক ছিলেন। এই এলাকায় প্রায় দেড় যুগ ধরে তারা বসবাস করছেন। এভাবে কেউ তাদের হত্যা করবে তা কেউ ভাবতেই পারছেন না।’