সৌদি আরব কর্র্তৃপক্ষ দেশটিতে সাজা হিসেবে বেত্রাঘাতের বিধান তুলে দিতে যাচ্ছে। গত শুক্রবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বেত্রাঘাতের বদলে অপরাধীকে কারাদণ্ড কিংবা জরিমানার সাজা দিতে বলেছে। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের একটি নথিতে এমনটাই বলা হয়েছে বলে গতকাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
তবে বেত্রাঘাতের সাজা বাতিল হলেও গুরুতর অপরাধের জন্য শিরেদ এবং চুরির দায়ে হাত কেটে দেওয়ার বিধান বহাল থাকবে দেশটিতে।
সংবাদ সংস্থাটি বলছে, সৌদি বাদশা সালমান ও তার ছেলে মোহাম্মদের আনা মানবাধিকার সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
সালমানের ছেলে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ নারীদের গাড়ি চালানো, মাঠে গিয়ে খেলা দেখা, অভিভাবকের অনুমোদন ছাড়া পাসপোর্ট প্রাপ্তি ও বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছেন। তার হাত ধরে সাড়ে তিন দশক পর দেশটির সিনেমা হলগুলোও সচল হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বহুদিন ধরেই সৌদি আরবের বিচার ব্যবস্থার সমালোচনা করে আসছে। তাদের ভাষ্য, সৌদি আরবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেই জায়গা হয় কারাগারে।
জনসম্মুখে মদপানের মতো অপরাধের জন্যও সৌদি আরবে বেত্রাঘাতের সাজা দেওয়া হতো।
সাইবার ক্রাইম ও ইসলাম অবমাননার শাস্তি হিসেবে ২০১৫ সালে সৌদি আরব ব্লগার রাইফ বাদাউয়িকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের সাজা দিলে তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে স্থান পায়। বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা এবং বেত্রাঘাতে রাইফের মৃতপ্রায় হয়ে পড়ার খবর জানাজানি হলে ওই সাজা রহিত হয়।