চলমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলেও মানুষ যাতে খাদ্য ও পুষ্টি সংকটে না পড়ে এজন্য গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার চারটি ইউনিয়নে কয়েকদিন ধরে ৬ হাজার পেঁপে গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে।
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) উদ্যোগে গঠিত ফুডব্যাংকের উদ্যোগে এসব চারা বিতরণ করা হচ্ছে।
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া দুস্থ ও অসহায় মানুষের সাহায্যার্থে গত মার্চের শেষ সপ্তাহে ইউএনও আবু রায়হান দোলন নিজ কার্যালয়ে গঠন করেন ফুডব্যাংক (খাদ্যভাণ্ডার)।
গঠনের পর থেকে এই ফুডব্যাংকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নগদ টাকাসহ খাদ্যদ্রব্য প্রদান করছেন। সেসব টাকায় খাদ্যদ্রব্য কিনে ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নেই।
করোনা পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে মানুষ খাদ্য ও পুষ্টি সমস্যায় ভুগতে পারে বিষয়টি বিবেচনা করে এ সমস্যার সমাধানে ৬ হাজার পেঁপে গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নেয়া হয়।
কেননা পেঁপে যথেষ্ট পুষ্টিসমৃদ্ধ, দ্রুত বড় হয় ও তাড়াতাড়ি ফল পাওয়া যায়। এছাড়া পেঁপে বিক্রি করে অর্থও আয় হবে। তাই উদাখালী, গজারিয়া, উড়িয়া ও কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের প্রত্যেকটি গ্রামের নিম্ন আয়ের প্রত্যেক পরিবারকে একটি করে পেঁপে গাছের চারা দেয়া হচ্ছে।
পেঁপে গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না বিধায় দ্বীপচরভিত্তিক ফুলছড়ি, ফজলুপুর ও এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নে চারা বিতরণ করা হয়নি।
এছাড়া ফুডব্যাংক থেকে ইতোমধ্যে ষোলশোর বেশি দুস্থ পরিবারকে ১০ কেজি চাল, দুই কেজি আলু, এক কেজি মসুর ডাল ও এক কেজি করে লবণ দেয়া হয়েছে। বিতরণের এই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব খাদ্যের সাথে ছিল প্রয়োজন মতো লাউ, মিষ্টি কুমড়া, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়স ও পুঁই শাকের বীজ।
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু রায়হান দোলন বলেন, গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন উদাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বুড়াইল গ্রামে এই চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। চারা রোপণের এই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। স্বল্প সময়ে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার নিশ্চিতকরণে শাক-সবজি উৎপাদনের বিকল্প নেই।
বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলেও মানুষ যাতে খাদ্য ও পুষ্টি সংকটে না পড়ে সেজন্য পেঁপে গাছের চারা রোপণের এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান ইউএনও আবু রায়হান দোলন।