চিকিৎসক-নার্স থেকে শুরু করে আয়া, এমনকি অ্যাম্বুলেন্স চালকও করোনা আক্রান্ত হওয়ায় হবিগঞ্জের ২৫০ শয্যা আধুনিক সদর হাসপাতালে গতকাল রবিবার থেকে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করা হয়েছে। এ নিয়ে জেলার তিনটি হাসপাতালে সেবা বন্ধ করা হলো।
এর আগে লাখাই ও চুনারুঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দুটোতে সেবা কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। গত শনিবার হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের ১ জন চিকিৎসক, ২ জন নার্স, ২ জন প্যাথলজিস্ট, ১ জন ব্রাদার, ১ জন ক্লিনার, ২ জন আয়া, ২ জন অ্যাম্বুলেন্স চালক করোনা শনাক্ত হন। একই দিন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নাজির এর রিপোর্ট করোনা পজিটিভ এসেছে।
ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুখলিছুর রহমান উজ্জ্বল জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামী তিন দিনের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল বন্ধ করা হয়েছে। তবে করোনা রোগীর সেবা অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ১০ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা মাইক্রোবাস চালকের শরীরে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। আইইডিসিআর ও সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা করে গত শনিবার রাত পর্যন্ত ৪৭ জনের করোনা শনাক্ত করা হয়েছে।
অপরদিকে, করোনা উপসর্গ নিয়ে একজন মারা যাওয়ায় হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ৪টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।
ডেপুটি সিভিল সার্জন আরও জানান, এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগের ৪ জেলায় করোনা আক্রান্তদের মধ্যে হবিগঞ্জ শীর্ষে রয়েছে। ডাক্তার ছাড়া সব রোগীকে হবিগঞ্জ হাসপাতালের আইসোলেশনে আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন রুবেল জানান, মারা যাওয়া ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত ছিলেন কি না রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি। তার উপসর্গগুলো সন্দেহজনক হওয়ায় তার বাড়ি ও তিতখাই গ্রামে শ^শুরবাড়িও লকডাউন করা হয়েছে। কারণ অসুস্থ হওয়ার কিছুদিন আগে তিনি শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন।