দেশে এ পর্যন্ত ঢাকার পর নারায়ণগঞ্জে বেশি করোনাভাইরাস সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছে। হটস্পটে পরিণত হওয়া এই জেলায় প্রতিদিনই ৪০-৭০ কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হচ্ছিল। তবে গত ২১ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত এই জেলা থেকে দেওয়া সন্দেহভাজন ব্যক্তির রক্তের নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে এলাকাবাসী।
গতকাল রবিবার জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিজেদের ব্যবস্থাপনায় জেলা থেকে ২২৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে পাঠিয়েছে। কিন্তু করোনার নমুনা পরীক্ষার একটি প্রতিবেদনও আসেনি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে। শুধু তাই নয়, পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির করোনা পরীক্ষার ফল আটকে আছে ঢাকায়।
এসব পরীক্ষার ফল না পাওয়ায় জেলায় নতুন কী সংখ্যক মানুষের দেহে প্রাণঘাতী ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে তা জানে না স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলাবাসী। সচেতন ব্যক্তিরা মনে করছে, ৫ শতাধিক ব্যক্তির মধ্যে যদি ৩০ শতাংশও করোনায় সংক্রমিত হয় তাহলে এই জেলায় এরই মধ্যে অনেকেই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, যারা নমুনা দিয়েছে তাদের মধ্যে কারা পজিটিভ আর কারা নেগেটিভ তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ফলে পজিটিভ হলে যে সতর্কতা অবলম্ব করা যেত, তা এখন যাচ্ছে না। এতে করে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।
জেলা করোনাভাইরাস বিষয়ক ফোকাল পারসন ও সদর উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত ২১ থেকে ২৪ এপ্রিলের করোনা টেস্টের কোনো রিপোর্ট আইইসিডিআর থেকে পাইনি। ৫ শতাধিক নমুনা রিপোর্ট না পাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণও কেউ বলছে না। রিপোর্ট আটকে থাকায় অনেক বিপাকে আছি। প্রতি মুহূর্তে মানুষ ফোন করে রিপোর্টের খবর জানতে চাচ্ছে। রিপোর্ট না পেয়ে লোকজন হতাশ হয়ে আমাদের নিয়ে উল্টাপাল্টা মন্তব্য করছে।’
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২১ এপিল পর্যন্ত জেলায় শনাক্ত সংখ্যা ছিল ৬২৫ জন ও মৃত্যু ৩৯ জন। এর সঙ্গে গতকাল আইইডিসিআর থেকে পাওয়া শুধু মৃতের সংখ্যা জানানো হয়েছে। এতে নতুন করে দুইজনের মৃত্যু যোগ হয়ে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৪১ জনে। গত ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, আড়াইহাজার উপজেলায় শনাক্ত ১২ জন ও সুস্থ ১ জন। বন্দর উপজেলায় শনাক্ত ৯ জন ও মৃত্যু ১ জন। রূপগঞ্জে শনাক্ত ৯ জন, মৃত্যু ১ ও সুস্থ ১। সদর উপজেলায় শনাক্ত ১৩৩ জন, মৃত্যু ৯ ও সুস্থ ৭ জন। সোনারগাঁ উপজেলায় শনাক্ত ১১ জন ও মৃত্যু ২ জন। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি এলাকায় শনাক্ত ৪২৭ ও মৃত্যু ২৫ জন। সব মিলিয়ে জেলায় শনাক্ত ৬২৫ ও মৃত্যু ৪১ জন। তবে আটকে থাকা প্রতিবেদনগুলো পাওয়া গেলে সংখ্যা আরও বাড়বে।