কিমের ব্যক্তিগত ট্রেনের অবস্থান শনাক্ত

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যেই তার ব্যক্তিগত ট্রেনের অবস্থান শনাক্তের খবর পাওয়া গেল। দেশটির ছোট একটি শহরের অবকাশ যাপনকেন্দ্রে স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে ট্রেনটি শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নজরদারি দল। গতকাল রবিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শনিবার স্যাটেলাইট ছবিটি ইন্টারনেটে প্রকাশ করে ‘৩৮ নর্থ’ নামে ওয়াশিংটনভিত্তিক ওই নজরদারি দল। ছবিতে দেখা যায়, উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলের একটি ছোট শহরের অভিজাত এলাকায় কিম জং উনের ব্যক্তিগত ট্রেনটি দাঁড়িয়ে আছে। তবে তিনি ট্রেনে ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত নয়।

৩৮ নর্থ বলছে, স্টেশনটি কিম ও তার পরিবারের ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত। ২৫০ মিটার দীর্ঘ ট্রেনটি গত ১৫ এপ্রিল সেখানে ছিল না। তবে ২১ ও ২৩ এপ্রিল সেখানে দেখা গেছে। ট্রেনটির অবস্থান পর্যালোচনায় বোঝা গেছে পরবর্তী সময়ে ছেড়ে যাওয়ার জন্য ফের সেটি প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে সেটি কখন ছেড়ে যাবে, সে ব্যাপারে কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি।

দলটির একজন সদস্য গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ট্রেনটির উপস্থিতি উত্তর কোরিয়ার নেতার সন্ধান কিংবা তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেয় না। তবে তিনি দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলের এ অভিজাত অঞ্চলে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা যেতেই পারে।’

গত শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম নিউসিস জানায়, কিমের ব্যক্তিগত বিশেষ ট্রেনটি ওনসন কম্পাউন্ডে রয়েছে। ব্যক্তিগত বিমানটি রয়েছে রাজধানী পিয়ংইংয়ে। করোনা মহামারীর কারণে কিম সম্ভবত ওনসন কম্পাউন্ডে আশ্রয় নিয়েছেন।

এর আগে বিভিন্ন সময় কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তার অনুপস্থিতির পর থেকেই জনমনে অনেক প্রশ্নের উদ্রেক হয়। কিম কেমন আছেন, কোথায় আছেন, এসব প্রশ্নের সদুত্তর না পেয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ডালপালা ছড়ায়। এরই মধ্যে জাপানি সংবাদমাধ্যম বলছে, হার্টের অপারেশনের পর তিনি ‘অচেতন’ হয়ে গেছেন। হংকংয়ের একটি টেলিভিশন বলছে, তিনি আসলে মারাই গেছেন। তবে এসব খবর নিয়ে উত্তর কোরিয়া কোনো প্রতিক্রিয়া না জানানোয় কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা সেটা নিয়ে ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে।