করোনা শনাক্তে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র যে কিট উদ্ভাবন করেছে সেটা নেয়নি সরকারের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। গতকাল রবিবার এই কিটের উদ্ভাবক ডা. বিজন কুমার শীলসহ তিনজন জমা দিতে গেলে তা গ্রহণ করেনি অধিদপ্তর। এমনকি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের তিনজনের একজনকেও ওষুধ প্রশাসনের কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। গতকাল বিকেলে রাজধানীর ধানম-ির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সরকারের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ব্যবসায়িক স্বার্থে জাতীয় স্বার্থের বিপক্ষে কাজ করছে। তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে গণস্বাস্থ্যের কিট গ্রহণ করেনি। আমরা জনগণের স্বার্থে শুধু সরকারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে কিটটি কার্যকর কি না তা দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকারিভাবে প্রতি পদে পদে পায়ে শিকল দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
এর আগে গত শনিবার বিকেলে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লট’ নামে এই কিট হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু সেখানেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কেউ উপস্থিত হননি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এই কিট গ্রহণ করেছে বলে গণস্বাস্থ্য জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রথমে আমাদের বলল, অনুমোদন নেই দেখে আমরা আসতে পারব না। তাই তারা শনিবার আসেননি। আজ (গতকাল) গণস্বাস্থ্যের ড. বিজন কুমার শীলসহ তিনজন গেলেন। তারা গ্রহণ করলেন না। এমনকি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের তিনজনের একজনকে ওষুধ প্রশাসন কার্যালয়ে প্রবেশও করতে দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, আমরা ওষুধ প্রশাসনকে বলেছি, আপনারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে লিখে দেন এই কিটগুলো পরীক্ষা করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা বলে সেটা করতে পারবে না। আমি বলতে চাই, সরকারি খরচের জন্য যা টাকা লাগে দেব। তবে কোনো ঘুষ দিতে পারব না। কোনো ব্যবসায়ীকে টাকা দিতে পারব না। এতে আমাদের কিট অনুমোদন হোক বা না হোক।
ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, আমি একটা জিনিস তৈরি করেছি। এটা ভালো কি মন্দ দেখার দরকার সেই ব্যক্তির, যার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আর সেটা ঠিক করা উচিত ওষুধ প্রশাসনের। সেটা আমরা তাদের বোঝাতে পারছি না। তারা বলছে, সিআরও মাধ্যমে করার। আমি যদি তাদের টাকা দিয়ে সেটা করাই তাহলে আমার টাকা খেয়ে কেউ কি বলবে এটা খারাপ? এরা সরকারের পতনের জন্য জনগণকে ক্ষেপিয়ে তুলছে। জনগণকে তারা অকারণে ক্ষেপাচ্ছে।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষক দলের সদস্য ড. ফিরোজ আহমেদ বলেন, দেশে এখনো করোনা শনাক্তকরণ কিটের কোনো নীতিমালা নেই। আর এমন জরুরি অবস্থায় তার দরকারও নেই। এর মধ্যেও যত প্রকারের ডকুমেন্ট চেয়েছেন সব জমা দিয়েছি। যতগুলো কাজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করতে বলেছে আমরা তা ধাপে ধাপে করেছি। তারা আজকে যখন সিআরও’র কথা বলছেন তখন সেটা আপনারা করবেন।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আপনাদের বুঝতে হবে কীভাবে তারা ব্যবসায়িক স্বার্থকে রক্ষা করছেন। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর অনৈতিক কাজ করছে, দেশের ক্ষতি করছে। তারা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে রেখে চলেন, তাতে তাদের লেনদেনে সুবিধা হয়।
ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের উদ্দেশে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, আপনাদের সব ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করে দেব, তবে ঘুষ দেব না। গণস্বাস্থ্যের ৪৮ বছরে কাউকে ঘুষ দেইনি, এতে প্রোডাক্ট বাজারে আসুক না আসুক, আমরা ঘুষ দেইনি, দেব না। এই দুর্নীতির অংশীদার হইনি, হব না। আমরা আন্দোলন করে যাব।