সরকারের লক্ষ্য কেউ যেন অনাহারে না থাকে : তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, একজন মানুষও যেন অনাহারে না থাকে।

গতকাল রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে অনলাইনে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তথ্য সচিব কামরুন নাহার, প্রধান তথ্য অফিসার সুরথ কুমার সরকার ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী বলেন, সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে যাতে এ বিশেষ পরিস্থিতিতে যারা দিন এনে দিন খায়, যারা দরিদ্র তাদের যেন অসুবিধা না হয়। সরকারের পাশাপাশি বিত্তবান, দয়ালু এবং সমাজসেবীরাও এগিয়ে এসেছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিনড়ব পর্যায়ের নেতারাও সারা দেশে দরিদ্র মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য একজন মানুষও যেন অনাহারে না থাকে, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

ড. হাছান জানান, করোনাভাইরাস থেকে দেশবাসীকে মুক্ত রাখার লক্ষ্যে এবং যাতে এ ভাইরাস জনসাধারণের মাঝে না ছড়ায়, সেজন্য সরকার ২৬ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল এবং পরবর্তী সময়ে সেই ছুটি বৃদ্ধি করে ৫ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। এ ছুটি চলাকালেও যেহেতু জরুরি সেবা আমাদের দিতে হয়, সেজন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিনড়ব দপ্তর যেমন তথ্য অধিদপ্তর, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন চালু ছিল। সে কারণে আমাদের কর্মকর্তাদের সীমিত আকারে অফিস করতে হয়েছে। সম্প্রতি সরকার জরুরি বিভিনড়ব বিভাগ এবং মন্ত্রণালয়, যেগুলো সবার সঙ্গে যুক্ত সেগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ সরকারের নানা সহায়তা কর্মসূচির আওতার মধ্যে আছে এবং সহায়তা পাচ্ছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ভিজিডির মাধ্যমে ১০ লাখ ৪০ হাজার পরিবারকে সহায়তা দিচ্ছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা মূল্যে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। সাড়ে ১২ লাখ পরিবার ওএমএসের মাধ্যমে সহায়তা পাচ্ছে। মৎস্য ভিজিএফ এ মাসে আগামী মাসে ৩ লাখ পরিবার মৎস্য ভিজিএফ পাবে। এর বাইরে জেলা প্রশাসন শাকসবজি, দুধ কিনে জনগণের মধ্যে বিতরণ করছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ বিশেষ পরিস্থিতির কারণে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল পর্যন্ত ১ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন চাল, ৪৯ কোটি টাকা ও শিশুখাদ্যের জন্য বিশেষ নগদ অর্থ ১১ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ‘তাছাড়াও বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, স্বামী পরিত্যক্ত ভাতাসহ নানাবিধ ভাতার মাধ্যমে দেশের আরও প্রায় এক কোটির কাছাকাছি লোক নানা ধরনের সহায়তা পাচ্ছে। অর্থাৎ দেশের এক-তৃ তীয়াংশের বেশি মানুষ সরকারের এ সহায়তার আওতার মধ্যে রয়েছে,’ বলেন তথ্যমন্ত্রী